
চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি দ্রুতগতির ট্রাকের চাপায় এক মাদরাসাছাত্রী ও অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বড়তাকিয়া বাজারের জাহেদিয়া দাখিল মাদ্রাসার সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ছাত্রীর নাম খাদিজা মাশমুম (১৫)। সে স্থানীয় বড়তাকিয়া জাহেদিয়া দাখিল মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী এবং খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পোলমোগরা গ্রামের নাসির উদ্দিনের বড় মেয়ে। দুর্ঘটনায় খাদিজার আরও দুই বোনসহ ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে তিন বোন হাত ধরাধরি করে বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে মাদ্রাসায় যাচ্ছিল। তারা মাদ্রাসার ফটকের কাছাকাছি পৌঁছালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী লেনে থাকা একটি গোখাদ্যবোঝাই বেপরোয়া ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। অটোরিকশাটি ছিটকে পাশের পুকুরে পড়ে যায়। মুহূর্তেই ট্রাকটি পাশে থাকা তিন বোন ও পথচারীদের চাপা দিয়ে নিজেও পুকুরে উল্টে পড়ে।
ঘটনাস্থলেই খাদিজা মাশমুম এবং আনুমানিক ২০ বছর বয়সী অজ্ঞাত এক যুবক মারা যান। খবর পেয়ে মীরসরাই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেন।
দুর্ঘটনায় খাদিজার ছোট দুই বোন তোফিয়া তাবাসসুম (১৩) ও উম্মে হাবিবা (১১) এবং পথচারী আবুল খায়েরসহ (৪০) চারজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেন। আহতদের মধ্যে দুই বোনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
নিহত খাদিজার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। তিন মেয়ের বাবা নাসির উদ্দিন নির্বাক হয়ে বসে আছেন। স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ইমাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, মাদ্রাসার ঠিক সামনেই দুর্ঘটনাটি ঘটল। চোখের সামনেই প্রাণগুলো চলে গেল, কিছুই করার ছিল না।
মীরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাদিম হায়দার চৌধুরী জানান, আমি নির্বাচনী কাজে ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি দেখে দ্রুত উদ্ধার কাজে অংশ নিই। এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।