মাহে আলম মাহী
ভোলা সদর-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)-এর জোট সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নে এক বিশাল নির্বাচনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়ন বিএনপি ও বিজেপি'র যৌথ আয়োজনে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের নেয়ামতপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হারুন দেওয়ান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিজেপির চেয়ারম্যান ও ভোলা সদর-১ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, “নির্বাচিত হলে প্রথম দিনই ভোলা–বরিশাল সেতুর দাবিতে সংসদ গরম করবো ইনশাআল্লাহ।” তিনি বলেন, ভোলার মানুষের জীবনযাত্রার মান দীর্ঘদিনেও তেমন পরিবর্তন হয়নি এবং ভোলার উন্নয়নের জন্য এই সেতু এখন সময়ের দাবি।
নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে পার্থ বলেন, তার রাজনীতিতে বেড়ে ওঠা ভোলাবাসীর চোখের সামনেই। তার সবচেয়ে বড় পরিচয়—তিনি প্রয়াত নাজিউর রহমান মঞ্জু (মঞ্জু মিয়া)-এর ছেলে। তিনি দাবি করেন, মঞ্জু মিয়া ভোলার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন করেছেন।
তিনি বলেন, “আমার বাবাকে বিশ্বাস করে আপনারা ঠকেন নাই। এবার আমাকে বিশ্বাস করে দেখেন—ঠকবেন না ইনশাআল্লাহ। ভোলার উন্নয়ন আমাদের হাত ধরেই হবে।”
২০০৮ সালের প্রসঙ্গ টেনে পার্থ বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আশ্রয় ও দায়িত্বে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিরোধী দলে থেকেও সংসদ, রাজপথ ও টকশোতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন বলে দাবি করেন।
বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী গোলাম নবী আলমগীরের প্রতি তার পূর্ণ সম্মান রয়েছে। বিএনপি–বিজেপির ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ থাকলেই ভোলায় শান্তিপূর্ণ রাজনীতি সম্ভব।
ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে রাজনীতি করার সমালোচনা করে পার্থ বলেন, কেউ যদি জান্নাতের টিকিট বিক্রির কথা বলে, তবে তা ধর্মের অপব্যবহার। তিনি বলেন, ভোট চাইতে সমস্যা নেই, কিন্তু ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করা যাবে না। “নির্বাচনের চেয়ে কেয়ামত অনেক বড়”—বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে তিনি আরও বলেন, তার রাজনৈতিক জীবনে কোনো চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা জমি দখলের অভিযোগ নেই। ভবিষ্যতেও কোনো অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি আশ্বাস দেন।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি সিনিয়র সহ সভাপতি আমিনুল ইসলাম খান, বিজেপি সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন, জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক রাইসূল আলম, যুগ্ম সম্পাদক তরিকুল ইসলাম কায়েদ, উত্তর দিঘদী ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান আবু নোমান মোঃ ছফিউল্লাহ এবং ভোলা সদর উপজেলা যুবদল সভাপতি বিল্লাল হোসেন প্রমূখ।
সমাবেশে বিএনপি ও বিজেপির স্থানীয় নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।