মোঃ রাতুল হাসান লিমন
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় শান্তিপূর্ণ শিক্ষার্থী আন্দোলনে গুলিবর্ষণে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক
অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
একই রায়ে অপর আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সম্পদ জব্দেরও নির্দেশ দিয়েছে।
সোমবার দুপুরে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার রায়ের সারাংশ পড়ে শোনান।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেছে, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান ওয়ারলেস বার্তার মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা প্রমাণিত হয়েছে। চানখাঁরপুল এলাকায় হত্যাকাণ্ড বন্ধ করার দায়িত্ব ছিল তাঁর, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ও রমনা অঞ্চলের
সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) শাহ আলম মো. আখতারুলের ওপর। কিন্তু তারা সেই দায়িত্ব পালন করেননি।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—
- সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান
- সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী
- সাবেক এডিসি শাহ আলম মো. আখতারুল
এছাড়া পুলিশ কর্মকর্তা ইমরুলকে ৬ বছর, শাহবাগ থানার তৎকালীন ওসি আরশাদ হোসেনকে ৪ বছর এবং কনস্টেবল সুজন হোসেন, নাসিরুল ইসলাম ও ইমাজ হোসেনকে ৩ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলায় মোট আট আসামির মধ্যে চারজন পলাতক রয়েছেন। পলাতকরা হলেন হাবিবুর রহমান, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, শাহ আলম মো. আখতারুল ও মোহাম্মদ ইমরুল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুলে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন। এ ঘটনায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।
মামলার বিচার শুরু হয় গত বছরের ১৪ জুলাই। ১১ আগস্ট থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। মোট ২৬ জন সাক্ষ্য দেন। আদালতে হত্যাকাণ্ডের বিবরণ, ভিডিও ফুটেজ, ফোনালাপসহ বিভিন্ন প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়।
এ রায়কে অনেকে ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও রায় কার্যকর করা নিয়ে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।