নিয়ামতপুর–নাচোল সীমান্তে ব্যক্তি উদ্যোগে রাস্তা নির্মাণ: বদলে গেল ছয়পুকুরিয়ার মানুষের জীবননওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার পশ্চিম সীমান্ত এলাকায় ব্যক্তি উদ্যোগে নির্মিত একটি রাস্তা বদলে দিয়েছে হাজারো মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা। রসুলপুর ইউনিয়নের ঘুঘুডাংগা টগরইল গ্রাম থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার ছয়পুকুরিয়া গ্রাম পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৩শ মিটার দীর্ঘ ও ৫ ফুট প্রশস্ত এই রাস্তাটি নির্মাণ করে মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এলাকার সুপরিচিত সমাজসেবী বাবুল আক্তার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ছয়পুকুরিয়া গ্রামে চলাচলের উপযোগী কোনো রাস্তা ছিল না। বর্ষা মৌসুমে কাদামাটি ও পানিতে যাতায়াত হয়ে উঠত দুর্বিষহ। অসুস্থ রোগী পরিবহন, শিশুদের স্কুলে যাওয়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াত এমনকি মৃত ব্যক্তিকে দাফন করতেও পড়তে হতো চরম ভোগান্তিতে। জমির আইলের ওপর দিয়েই চলাফেরা করতে হতো গ্রামবাসীকে।
এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে ব্যক্তি উদ্যোগে এগিয়ে আসেন বাবুল আক্তার। তাঁর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে রাস্তাটির মাটি ভরাট ও প্রাথমিক নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। এ কাজে এলাকার কিছু দানশীল মানুষ নিজেদের পৈতৃক জমি দান করে সহযোগিতা করেন।
কসবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকারিয়া আল মেহেবর জানান,
“বছরের পর বছর ধরে ছয়পুকুরিয়া গ্রামে সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী কোনো রাস্তা ছিল না। বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পানিতে যাতায়াত অসম্ভব হয়ে পড়ত। অসুস্থ রোগী, স্কুলগামী শিশু, এমনকি মৃত ব্যক্তিকে দাফন করতেও মানুষকে সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হতো। অনেক চেষ্টার পর আমরা এই রাস্তা নির্মাণে সক্ষম হয়েছি।”
নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য আঃ রশিদ বলেন,
“ছয়পুকুরিয়া গ্রামে প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার বসবাস করে, যাদের সদস্য সংখ্যা প্রায় এক হাজার। তারা এতদিন কোনো রাস্তা ছাড়াই বসবাস করছিল। রোগী, মৃত ব্যক্তি, স্কুলগামী ছাত্রছাত্রীসহ সবাই চরম দুর্ভোগে ছিল। এই রাস্তা নির্মাণে সেই দুঃখ দূর হলো।”
ছয়পুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা তামিজউদ্দিন, আশরাফুল ইসলাম ও সবুর আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,
“এই রাস্তা নির্মাণে আমাদের যে আনন্দ হচ্ছে তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। এতদিন আমরা কী দুর্বিষহ জীবনযাপন করেছি, তা একমাত্র আমরাই জানি। তাই আমরা নিজেদের জমি দান করে প্রায় এক হাজার ৩শ মিটার রাস্তা নির্মাণ করেছি।”
উদ্যোক্তা বাবুল আক্তার বলেন,
“দীর্ঘদিন ধরে ছয়পুকুরিয়ার মানুষ কষ্টে ছিল। সরকার বা জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার বলেও দ্রুত কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। তাই নিজের সাধ্যমতো সবার সুবিধার কথা ভেবে রাস্তা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিই। চেয়ারম্যান জাকারিয়া ভাই ও ইউপি সদস্য আঃ রশিদের সহযোগিতায় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মাটি ভরাটের টাকা যোগান দেওয়া হয়।”
এলাকাবাসীর মতে, এই রাস্তা শুধু চলাচলের পথ নয়, বরং এটি তাদের জীবনে স্বস্তি, নিরাপত্তা ও নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এখন সহজেই রোগী পরিবহন, স্কুলে যাওয়া, কৃষিপণ্য আনা–নেওয়া ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।
মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও ব্যক্তি উদ্যোগে উন্নয়নের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে ছয়পুকুরিয়ার এই রাস্তা। স্থানীয়দের আশা, ভবিষ্যতে সরকারি উদ্যোগে রাস্তাটি পাকাকরণ করা হলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় আরও বড় পরিবর্তন আসবে।