অভিযোগ সূত্র ও সরজমিনে গিয়ে জানাগেছে, শনিবার বিকেলে হাটশেখা হিন্দু পল্লীর মনোরঞ্জন বর্মণের স্বামী পরিত্যাক্ত এক সন্তানের জননী রঞ্জনা বর্মণ বাড়ীর পার্শে মাঠের মধ্যে গরুর গোবরের ঘুটি নিতে যায়। এ সময় পাশর্^বর্তী ইমামপুর গ্রামের আলতাব হোসেনের ছেলে আব্দুর রহিম তার হাত ধরে টানা হেঁচড়া করতে থাকে। তখন রঞ্জনা চিৎকার করতে করতে হাতে থাকা ঝাড়– দিয়ে আব্দুর রহিমকে ২/৩ টি আঘাত করে। পরে পল্লীর লোকজন এগিয়ে আসলে আব্দুর রহিম সেখান থেকে চলে যান।
ওই ঘটনার জেরে দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে আব্দুর রহিম ১১/১২ জন লোককে সাথে নিয়ে হাটশেখা হিন্দু পল্লীতে এসে ওই নারীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে সেখান থেকে চলে যায়।
প্রতিবেশী সোনালী বর্মণ বলেন, অনেকদিন ধরে রহিম কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে রঞ্জনাকে। ওর মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার পথে রহিম প্রায় সময় রাস্তাতে বাঁধা দেয়। রহিমের ভয়ে রঞ্জনা আজকে তার মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যেতে পারেনি। গত রাতে রহিম যেভাবে লোকজন নিয়ে এসে হামলা করেছে, তাতে পল্লীর সবাই ভয় পেয়েছে। সারারাত কেউ ঘুমাতে পারেনি। আমরা হিন্দু পরিবার। একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছি। ওই সময় মুসলমানেরা এগিয়ে না আসলে পুরো পরিবারকে আগুন লেগে দিয়ে পুড়িয়ে মারত রহিম।
মুদি দোকানী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, রহিম আগে থেকেই এলাকায় চোর হিসেবে পরিচিত। মাঠের মধ্যে একটি ঘর তৈরি করেছে, সেখানে প্রতিরাতে লোকজন নিয়ে এসে কি সব কাজ যে করে, তা কেউ বলতে পারে না। তাছাড়া মুসলমান হয়ে হিন্দু পরিবারের মেয়েকে কেন হাত ধরে টানাহেঁচড়া করতে হবে ?
আসমা বেগম জানান, দিনের ঘটনার জেরে রাতে রহিমসহ ১০/১২ জন লোক লাঠি হাতে নিয়ে এসে রঞ্জনাদের বাড়ীতে যেভাবে ভাংচুর করেছে,ওই সময় তাদের চিৎকারে লোকজন এগিয়ে না আসলে হয়তো তাদের সবাইকে মেরে ফেলত। লোকজন বেশী আসার কারনে তারা সেখান থেকে চলে গেছে।
প্রতিবেশী আব্দুল কাদের বলেন, রহিম যে একজন চোর,তার প্রমান আমি নিজেই। এক রাতে রহিম আমাকে কুদাল হাতে নিয়ে রাস্তায় আটক দিয়েছিল। ওর সাথে আরেজন ছিল,সে আমার পরিচিত হওয়ায় সেবারের মত প্রাণে বেঁচে গেছি। তারপরও বলেছে, তুই এবার বাঁচলে কি হবে ? বাড়িতে থাকতে পারবি না। রহিম আসলেই একজন কুখ্যাত লোক।
ভূক্তভোগী রঞ্জনা বর্মণ বলেন, স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ির পর সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এরপর মেয়েকে এলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেই। প্রতিদিন মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে রহিম আমাকে উত্ত্যক্ত করতো। মানসন্মানের ভয়ে তাকে কিছুই বলিনি। শনিবার যখন আমি মাঠের মধ্যে গরুর গোবরের ঘুটি নিতে যাই, তখন সে পিছন থেকে এসে আমার হাত ধরে টানাহেঁচড়া করতে থাকে। আমি ওর হাত থেকে ছুটতে চেষ্টা করার পাশাপশি চিৎকার করতে থাকি। একপর্যায়ে রহিম আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত দিতে থাকলে পাশে পড়ে থাকা ঝাড় দিয়ে ২/৩টি আঘাত করেছি। রাতে আবার রহিম লোকজন নিয়ে এসে বাড়িতে ঢুকে টিনের বেড়া ও ঘরের ছাউনি ভাংচুর করেছে। আবার সবাইকে পুড়িয়ে মারার হুমকিও দিয়েছে। আমি সকালে থানায় গিয়ে অভিযোগ করেছি।
অভিযুক্ত আব্দুর রহিম বলেন, আমাকে ঝাড়ু দিয়ে মারার কারনে বিচার নিতে রাতে লোকজন নিয়ে রঞ্জনাদের বাড়ীতে গিয়েছিলাম। ভাংচুর ও ভয়ভীতির অভিযোগ সত্য নয়।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।