
মনির আহমদ আজাদ
বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট লোহাগাড়া থানায় সংঘটিত অস্ত্র লুটের ঘটনায় দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই লুট হওয়া অস্ত্র ঘিরে লোহাগাড়াবাসীর মধ্যে বাড়ছে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওইদিন অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা লোহাগাড়া থানার অস্ত্রাগার থেকে সরকারি বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি লুট করে নিয়ে যায়। লুন্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—এই অস্ত্রগুলো কোথায় আছে এবং কার হাতে ব্যবহৃত হতে পারে?
নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, ততই মানুষের মনে ভয় আরও গভীর হচ্ছে। রাজনৈতিক সহিংসতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কিংবা নাশকতার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না সচেতন নাগরিকরা। অনেকেই মনে করছেন, লুট হওয়া অস্ত্রগুলো অপরাধীচক্রের হাতে থাকলে তা নির্বাচনকালে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
স্থানীয় এক প্রবীণ নাগরিক বলেন, থানার অস্ত্র যদি উদ্ধার না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে—এই নিশ্চয়তা আমরা কীভাবে পাব?
একাধিক সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন ইতোমধ্যে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছে—দ্রুত সময়ের মধ্যে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করে জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা হোক। তাদের মতে, শঙ্কামুক্ত ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে প্রথম শর্ত হচ্ছে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, থানার অস্ত্র লুটের মতো ঘটনা শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়, এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সাথেও সরাসরি জড়িত। এ ধরনের অস্ত্র অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত হলে তার দায় শুধু অপরাধীর নয়, প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিকেও আঙুল উঠবে।
লোহাগাড়াবাসীর স্পষ্ট দাবি—লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করতে হবে, দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে শঙ্কামুক্ত নির্বাচন কেবল একটি কাগুজে প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।