প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 21, 2026 ইং
নতুন মোটরসাইকেল কেনার দু’দিন পরই ১০ হাজার টাকার মামলা

রবিউল ইসলাম
মাত্র দুই দিন আগে শোরুম থেকে নতুন মোটরসাইকেল কিনেছিলেন প্রবাসী রবিন। নিয়ম মেনেই পরদিন ব্যাংকে রেজিস্ট্রেশনের জন্য নির্ধারিত ফি জমা দেন তিনি। আজ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশনের ‘রিসিভ কাগজ’ সংগ্রহ করতে বের হলে পথে তাকে আটক করে ট্রাফিক পুলিশ। এরপর কোনো ধরনের শুনানি বা সহানুভূতি ছাড়াই রবিনের বিরুদ্ধে ১০ হাজার টাকার মামলা দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী রবিন জানান,
“আমি ট্রাফিক পুলিশকে শোরুমের কাগজ দেখাই। বলি—দুই দিন আগে মোটরসাইকেল কিনেছি, গতকাল ব্যাংকে রেজিস্ট্রেশনের টাকা জমা দিয়েছি, আজ রিসিভ কাগজ দেবে। কিন্তু অনুনয়-বিনয় করেও কোনো কাজ হয়নি। তারা কোনো কথাই না শুনে সরাসরি মামলা দেয়।”
এই ঘটনায় রবিনের প্রশ্ন—
“নতুন বাইক কেনার পর সঙ্গে সঙ্গে তো রেজিস্ট্রেশন হাতে পাওয়া সম্ভব না। প্রক্রিয়া চলছে জেনেও কেন আমাকে অপরাধী করা হলো? আমার দোষটা কোথায়?”
ঘটনাটি জানাজানি হলে সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন—
রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় নতুন মোটরসাইকেলের জন্য কি কোনো ‘গ্রেস পিরিয়ড’ নেই?
যদি থাকে, তবে তা কেন মাঠপর্যায়ে কার্যকর হচ্ছে না? আর যদি না থাকে, তবে সাধারণ মানুষকে আগেভাগে সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা কেন দেওয়া হয় না?
অনেকের মতে, নতুন গাড়ি বা মোটরসাইকেল কেনার পর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শোরুমের কাগজের ভিত্তিতে চলাচলের সুযোগ দেওয়ার প্রচলন বাস্তবে থাকলেও তা স্পষ্টভাবে আইন বা নির্দেশনায় উল্লেখ না থাকায় সাধারণ মানুষ বারবার হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বশীল মহলের বক্তব্য জানা না গেলেও, সচেতন নাগরিকদের দাবি—
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিকতা ও বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
নচেৎ আইন মানতে গিয়েই মানুষ প্রতিনিয়ত আইনের ফাঁদে পড়তে থাকবে।
স্বত্ব © দৈনিক জনতার খবর ২০২৫ | ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।