
উওম দাস
বিএনপির সাবেক প্রয়াত চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে
গাজীপুরের কাপাসিয়ার সর্বত্র মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠান অব্যাহত রয়েছে। ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার বাদ আছর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির ২নং ওয়ার্ড (রাওনাট, মেরুন টেক, ডুয়াইপাখরী, চাটারবাগ, বড় চালা, নাজাই, রানীগঞ্জ) বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানে এলাকার বিপুল সংখ্যক নারী পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে
আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দোয়া প্রার্থনা করেন গাজীপুর-৪ কাপাসিয়া আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের পদপ্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান।
রানীগঞ্জ নীলকুঠি মাঠে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে দুর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুম সরকারের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা।
কুয়েত শাখা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলামের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত বিশেষ দোয়া পূর্ব আলোচনা সভায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন দুর্গাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোলায়মান মোল্লা, জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসী, কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য ও কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ মোল্লা, মাসুদ মোল্লা, কবির আহমেদ সরকার, ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নূরুল আমিন মোল্লা, বিএনপি নেতা সাহাদাতুজ্জামান মুন্না, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল পালোয়ান, ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন শেখ, ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন খান, ইঞ্জিনিয়ার আনোয়ার হোসেন সোহেল, বিএনপি নেতা করিম বেপারী, কামাল হোসেন, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মহিবুল আলম শাহজাদা, ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, কৃষকদল নেতা আওলাদ হোসেন, যুবদল নেতা গোলাম মাহমুদ মোস্তফা, ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব শিবলু আলম সোহেল, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাহেদ আলম, ইউনিয়ন মহিলা দলের সভাপতি নার্গিস আক্তার, ইউনিয়ন ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা হারুন অর রশিদ,
যুবদল নেতা ইব্রাহিম মোল্লা,ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি নাজমুল হক মোড়ল প্রমুখ।
এছাড়া বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরে দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, আরাফাত রহমান কোকো, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত নেতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) আ স ম হান্নান শাহ্ ও সহধর্মিণী নাহিদ হান্নান, স্থানীয় প্রয়াত দলীয় নেতৃবৃন্দদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা হারুন অর রশিদ। শেষে আগত অতিথিদের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।
আলোচনা পর্বে শাহ রিয়াজুল হান্নান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া প্রার্থনা করে বলেন, একটি ধর্ম ভিত্তিক রাজনৈতিক দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিরিহ মা-বোনদের বিভ্রান্ত করছে। তারা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক ধর্ম পালনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। তারা ধর্মপ্রাণ মুসলমান মা-বোনদের জান্নাত পাইয়ে দেয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। তাদের থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিএনপি দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন। তাই বিএনপি সাধারণ মানুষের ভোটের দাবি রাখেন।
পতিত ফ্যাসিবাদের দোসররা দীর্ঘ ১৭ বছর আমাদের সাধারণ মানুষের কাছে যেতে দেয়নি। বিনা ভোটের সরকার দাবিদার বিগত দিনে এলাকার কোন উন্নয়ন করেনি। মানুষের বাক স্বাধীনতা হরণ সহ একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছিল। ১৯৭১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় প্রথমবার দেশ স্বাধীন হয়েছে। আর বিএনপির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফলে ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট হাসিনা পালিয়ে যাবার মধ্যদিয়ে দেশ দ্বিতীয় বার স্বাধীন হয়েছে।
মরহুম ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ্'র প্রতি এলাকার আপামর জনসাধারণের অগাধ আস্থা বিশ্বাস ছিলো। আপনাদের সাথে নিয়েই 'ফকির মজনু শাহ্ সেতু' সহ এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছিল। জীবদ্দশায় তিনি সকল কাজ করে যেতে পারেন নি। তাই আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সমর্থন নিয়ে অসমাপ্ত উন্নয়নমূলক কাজ গুলো সমাধান করবো ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরো বলেন, সাধারণ মানুষের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৩১ দফা ঘোষণা করেছেন। তা বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। হান্নান শাহ পরিবার বংশ পরম্পরায় কাপাসিয়ার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। ভবিষ্যতে যেকোনো পরিস্থিতিতে কাপাসিয়ার সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
শাহ রিয়াজুল হান্নান সবার কাছে দোয়া এবং সহযোগিতা কামনা করেন। সবাইকে দলমতের উর্ধ্বে উঠে কাপাসিয়ার সার্বিক উন্নয়নের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান। দল সরকার গঠন করলে কাপাসিয়ায় পরিবেশবান্ধব কলকারখানা স্থাপন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং মা-বোনদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মহিলাদের বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতার সংখ্যা বাড়ানো, এলাকার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের ন্যায্য পারিশ্রমিক পাবে। বড় বড় ব্যবসা কেন্দ্রের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ছোটখাটো পুঁজি খাটিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে সাবলম্বী হতে পারবেন। তাতে জায়গা জমির দাম বেড়ে যাবে। সাধারণ মানুষের শিক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা হবে। আগামী নির্বাচনে দলের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দদের ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দল সরকার গঠন করলে এলাকার সার্বিক উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবেন বলে আশ্বাস দেন।