প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 10, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 20, 2026 ইং
অবহেলায় ধ্বংসের পথে সুন্দরবনের আদলে গড়া পর্যটন কেন্দ্র

জান্নাতুল নাবিল
পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার পানগুছি নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা শ্যামলী নিসর্গ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট আজ চরম অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। একসময় যে পার্কটি ছিল উপজেলার গর্ব ও একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র, বর্তমানে তা কার্যত পরিত্যক্ত।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পানগুছি নদীর পাড় ঘেঁষে প্রাকৃতিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে সুন্দরবনের আদলে এই পার্কটি বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়। নদীর তীর, খোলা জলাভূমি ও ম্যানগ্রোভ পরিবেশ মিলিয়ে পার্কটি ছিল এক ধরনের প্রাকৃতিক লীলাভূমি। পার্কজুড়ে ছিল সইলা গাছ, ক্যাওরা গাছসহ সুন্দরবনের সঙ্গে মিল থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ-গাছালির সারিবদ্ধ বাগান, যা দর্শনার্থীদের মন কেড়ে নিত।নির্মাণের পর থেকে শ্যামলী নিসর্গ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট শুধু ইন্দুরকানীর মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল না। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন এখানে এসে এটিকে পিকনিক স্পট হিসেবে ব্যবহার করতেন। পাশাপাশি পিরোজপুরসহ আশপাশের জেলা ও দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরাও দিনব্যাপী অবসর সময় কাটাতে আসতেন এই প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ পরিবেশে। নদীর তীর ঘেঁষে গড়া সবুজ বাগান, খোলা প্রকৃতি ও নিরিবিলি পরিবেশ ছিল পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ।ইন্দুরকানী উপজেলার সাবেক নির্বাহী অফিসার হোসাইন মুহাম্মদ আল-মুজাহিদের উদ্যোগ ও তত্ত্বাবধানে এই পার্কটির পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির ১৪ তারিখে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস এবং পহেলা ফাল্গুনে পার্কটি উদ্বোধন করেন পিরোজপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন।তবে পার্কটি নির্মাণে সরকারি কোনো নির্দিষ্ট বরাদ্দ না থাকায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব প্রকট হয়ে ওঠে। বর্তমানে পার্কটির প্রবেশদ্বারে বাঁশ দিয়ে নির্মিত কারুকার্য করা গেটটি পুরোনো হয়ে বিভিন্ন স্থানে ভেঙে পড়েছে। ভেতরে প্রবেশের জন্য নির্মিত বাঁশের তৈরি দীর্ঘ ও দর্শনীয় সেতুটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে, যা দর্শনার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এর মধ্যেও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকরা পার্কটি দেখতে আসছেন। তবে তারা এসে অবকাঠামোর ভগ্নদশা, চলাচলের অনুপযোগী ব্যবস্থা ও নিরাপত্তাহীন পরিবেশ দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। পর্যটকরা তাদের ভোগান্তির কথা জানালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।বর্তমানে পিকনিক মৌসুমেও দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা এখানে এসে পিকনিক না করেই ফিরে যাচ্ছেন। ফলে সম্ভাবনাময় এই পর্যটন কেন্দ্রটি দিন দিন তার গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই সুন্দরবনের আদলে গড়া এই পরিবেশবান্ধব বিনোদন কেন্দ্রটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তারা দ্রুত সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।এলাকাবাসীর প্রশ্ন এই অবনতির দায় কার? পার্কটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কোন দপ্তরের? দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পানগুছি নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই সম্ভাবনাময় পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রটি চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
স্বত্ব © দৈনিক জনতার খবর ২০২৫ | ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।