আবু মুসা
"আপনার পুলিশ আপনার পাশে"তথ্য দিন, সেবা নিন এই প্রতিবাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল ও জননিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে বিট পুলিশিংয়ের আওতায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতেই এ সভার আয়োজন করা হয়।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকাল ৫টায় চিতলমারী থানার ৬ নং বিট অফিসারের উদ্যোগে উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়ন টেকেরহাট বাজার এলাকায় এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চরবানিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুকুল কৃষ্ণ মন্ডল,সাবেক ইউপি সদস্য নিত্যানন্দ বাড়ৈ,সুদাস বিশ্বাস, সুশান্ত বিশ্বাস, প্রভাষ বিশ্ব রায়, বিট অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই)দিবাকর মালাকার এবং এএসআই রতন হাজরাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, মসজিদের ইমামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত সবার সক্রিয় অংশগ্রহণে সভাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে পুলিশ ও সাধারণ জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থার কোনো বিকল্প নেই। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ দমনে সাধারণ মানুষের সচেতন ভূমিকা এবং সময়মতো সঠিক তথ্য প্রদান করলে পুলিশ দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হয়। এ সময় সবাইকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সহযোগী হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, ইভটিজিং, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং বাল্যবিবাহ সামাজিক ব্যাধি হিসেবে সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক নেতৃত্বকে আরও সক্রিয় হতে হবে। অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুললেই কেবল একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
বিট অফিসার এসআই দিবাকর মালাকার বলেন, বিট পুলিশিংয়ের মূল লক্ষ্য হলো পুলিশের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব কমিয়ে আনা এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধ করা। এলাকাভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করাই এই কার্যক্রমের অন্যতম উদ্দেশ্য।
এএসআই রতন হাজরা বলেন, বিট পুলিশিং কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। জনগণের সহযোগিতা পেলে অপরাধ দমনে পুলিশ আরও বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে পুলিশ কাজ করছে। নারী ও শিশু নির্যাতন, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। এসব অপরাধের তথ্য গোপনে পুলিশকে জানাতে সবাইকে আহ্বান জানান তিনি।
সভা শেষে বক্তারা সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।