
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় গভীর রাতে নৈশ প্রহরীকে অস্ত্রের মুখে বেঁধে রেখে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতচক্র দুটি গ্যারেজের তালা ভেঙে ১০টি অটোরিকশার ৩৪টি ব্যাটারি লুট করে নিয়ে গেছে। চুরি হওয়া ব্যাটারিগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য পাঁচ লাখ টাকার বেশি বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়নের তেতৈতলা পুরাতন মেঘনা ঘাট বাজার এলাকায় এই দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বাজারের ব্যবসায়ী মাইনুদ্দিন প্রধানের মালিকানাধীন দুটি অটোরিকশা গ্যারেজে হানা দেয় ৫–৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নৈশ প্রহরী আবুল হোসেন (৭০) জানান, প্রতিদিনের মতো তিনজন প্রহরী বাজারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি সড়কের মুখে দায়িত্বে থাকাকালে হঠাৎ করে ডাকাতরা তার গলায় রামদা ধরে এবং পিস্তল দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরে তাকে সড়কের পাশে হাত ও মুখ বেঁধে ফেলে রেখে ডাকাতি চালায়।
অন্য নৈশ প্রহরী ইমান আলী জানান, তিনি নদীর পাড়ের অংশে দায়িত্বে ছিলেন। ওই রাতে ওই দিকে যাতায়াত না থাকায় বিষয়টি বুঝতে পারেননি। ফজরের নামাজের পর ডাকাতির খবর পান বলে জানান তিনি।
ডাকাতির ঘটনায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন অটোরিকশা চালকরা। ব্যাটারি হারিয়ে অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ভুক্তভোগী চালক বিল্লাল হোসেন বলেন,
“আমরা গরিব মানুষ। কিস্তিতে টাকা তুলে অটো কিনেছি। ব্যাটারি ছাড়া গাড়ি চলবে না। এখন সংসার চলবে কিভাবে, কিস্তির টাকা দেবো কিভাবে—কিছুই বুঝতে পারছি না।”
চুরি হওয়া ব্যাটারির ভুক্তভোগী চালকরা হলেন— আনোয়ার হোসেন (পিতা: শহিদুল্লাহ), কামাল হোসেন, শামীম, বিল্লাল হোসেন, সাইদ, নিরব, হৃদয়, রাসেল মিয়া, সানি ও তানভীর ইসলাম। সবাই বালুয়াকান্দী ইউনিয়নের তেতৈতলা গ্রামের বাসিন্দা।
এ ঘটনায় তেতৈতলা মেঘনা ঘাট বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান দেওয়ান বলেন,
“বাজার ও আশপাশের এলাকায় একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি—ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দ্রুত ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হোক। গরিব মানুষগুলোর দুর্দশা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাসান আলী বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সম্প্রতি এলাকায় চুরি-ডাকাতির ঘটনা বাড়লেও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও বাজার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।