আজিজুর রহমান
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ভোটের আমেজ থাকলেও যশোর-২ (চৌগাছা–ঝিকরগাছা) আসনে হঠাৎ করেই থমকে গেছে নির্বাচনী পরিবেশ। অভিযোগের কারণে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আপিল বিভাগে ঝুলে আছে জামায়াত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ মসলেহ উদ্দিন ফরিদ ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানার মনোনয়নের ভাগ্য। এতে উভয় দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উৎকণ্ঠা ও হতাশা।
সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জানুয়ারি যশোরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান যশোর-২ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করেন। এ সময় মোট ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন—
ব্যাংক ঋণ (ক্রেডিট কার্ড) সংক্রান্ত জটিলতায় জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ মসলেহ উদ্দিন ফরিদ
দলীয় মনোনয়ন না থাকায় বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ ইসহক
এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসান
স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী জহুরুল ইসলাম
সে সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, যেসব ত্রুটির কারণে মনোনয়ন বাতিল বা পেন্ডিং রাখা হয়েছে, সেগুলো সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলে প্রার্থীরা মনোনয়ন ফিরে পেতে পারেন।
যাচাই-বাছাই শেষে যশোর-২ আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে থাকেন— বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইদ্রিস আলী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর ইমরান খান এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) রিপন মাহমুদ।
গত ১১ জানুয়ারি আপিল শুনানিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জহুরুল ইসলাম আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার মনোনয়ন ফিরে পান। একই আপিলে জামায়াত প্রার্থী ডা. মসলেহ উদ্দিন ফরিদ ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হন। তবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানা ডা. ফরিদের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ উত্থাপন করলে নির্বাচন কমিশনের আপিল বিভাগ বিষয়টি আমলে নিয়ে ১৫ জানুয়ারি শুনানির দিন নির্ধারণ করে।
এ বিষয়ে ডা. মসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন,
“আমি ব্রিটিশ পাসপোর্ট স্যারেন্ডার করে নাগরিকত্ব বাতিল করেছি এবং বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে দেশে ফিরেছি। এ সংক্রান্ত সকল ডকুমেন্ট নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে, শুরুতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও কমিশন সূত্রে জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে তার মনোনয়ন বাতিলের আবেদন করেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ১৬ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করেছে।
এছাড়াও ঋণ সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের আবেদনের প্রেক্ষিতে সাবিরা সুলতানার বিরুদ্ধে আরেকটি আপিল শুনানি ১৭ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফলে যশোর-২ (চৌগাছা–ঝিকরগাছা) আসনে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর ভাগ্য এখন পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।