প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 14, 2026 ইং
ধামরাইয়ে জমে উঠেছে পৌষ মেলা, হাজারো মানুষের ঢল

মুস্তাফিজুর রহমানঢাকার ধামরাইয়ে জমে উঠেছে শীতকালীন পৌষ মেলা। ধামরাই পৌরসভাসহ ১৬ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পৌষ মেলা শুরু হয়েছে। একে সাকরাইন মেলা বা পৌষ সংক্রান্তি মেলাও বলা হয়। তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এই মেলাকে বুড়া-বুড়ির মেলাও বলে থাকেন। ছোট বাচ্চাসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে এই মেলায় দেখা যায়। এসব মেলায় ঘুড়ি ওড়ানোসহ বাড়িতে ব্যবহৃত মাটির তৈরি জিনিসপত্র , ছোট বাচ্চাদের বাহারী ধরনের খেলনা, নারীদের ব্যবহৃত চুড়ি সহ আকর্ষণীয় জিনিস পত্র বিক্রি করা হয় এই মেলায়। পৌষ মেলার বড় আকর্ষণ থাকে রসগোল্লা, মুড়ি, মিষ্টি জাতীয় হরেক প্রকারের খাবার। মেলায় আসা লোকজন তাদের শখের জিনিসপত্র ক্রয় করতে ব্যস্ত সময় পাড় করছে।
মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) ভোর বেলা থেকেই এই মেলা বসে। ধামরাই পৌরসভার যাত্রা বাড়ি মাঠে ভোর বেলায় এই মেলা বসে। চলে দুপুর পর্যন্ত। এর মধ্যেই মেলা শেষ হয়ে যায়। তবে কিছু কিছু এলাকায় সকাল থেকে মেলা বসে চলে অনেক রাত পর্যন্ত।
জানা যায়, উপজেলার হাজীপুর, কাকরান, দেপাশাই কাউন্সিল বাজার, কালামপুর, শ্রীরামপুর, বাসনা, বালিয়া, সীতিপাল্লি, সানোড়া, বাড়িগাও, নান্নার গোপালপুর, বারবারিয়া, রোয়াইল সহ বিভিন্ন জায়গায় এই মেলা বসে। তবে কোথাও সকালে আবার কোথাও বিকেলে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। কোথাও কোথাও তিন দিন ব্যাপিও চলে থাকে এই মেলা। কিন্তু শ্রীরামপুর মাঠে এই মেলা প্রায় মাস ব্যাপি চলে। তবে এই দিনে হিন্দুদের পূজাও পালন করা হয়। মেলায় সকল ধর্মের লোকই আসে।
বাঙালি সংস্কৃতিতে পৌষ মাসের এই শেষ দিনটি উৎসব মুখর পরিবেশে পালিত হয়। প্রতিবারের মতো এবারও ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণী- পেশার মানুষ মেলায় আগমন করে। মেলায় কুটিরজাত শিল্প সরঞ্জামের জিনিস পত্রের পসরা সাজিয়ে বসে থাকে দোকানিরা। বিভিন্ন প্রকার জিনিসপত্র বা খাদ্য সামগ্রীর দোকান দিয়ে থাকে। এসব মেলায় জাতের কোন বৈষম্য থাকে না।
পৌষ মেলায় আসা শ্যামল চন্দ্র পাল বলেন, যুগ যুগ ধরেই সাকরাইন মেলা বা পৌষ সংক্রান্তি মেলা চলে আসছে। আমাদের পৌষ মাসের শেষ দিন এই মেলা বসে। কোন কোন এলাকায় ভোর বেলা থেকে শুরু হয় আবার কোথাও বিকেলে বসে চলে রাত পর্যন্ত। কোথাও একদিন, আবার কোথাও তিন দিন বা এক মাস ধরেও চলে এই মেলা। এখানে হিন্দু মুসলমান সকলেই অংশগ্রহণ করেন। ধর্মীয় কোন ভেদাভেদ নেই। স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সকল ধর্মের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। কোথাও এই মেলাকে বুড়া-বুড়ির মেলাও বলে থাকে। এ মেলার প্রধান আকর্ষণ ঘুড়ি উড়ানো। প্রতিযোগীতায় নেমে যায় হিন্দু ধর্মাবল্মীদের সাথে মুসলমান ছেলেরাও।
খেলনা জাতীয় জিনিসপত্র ক্রয় করতে বেশি দেখা যায় ছোট বাচ্চাদের । তাছাড়া বাসায় ব্যবহারের জন্যও অনেকে জিনিস পত্র ক্রয় করে থাকেন । যেহেতু মেলা উপলক্ষে কম দামে সব কিছুই পাওয়া যায় তাই সবাই ক্রয় করে থাকেন। বাৎসরিক এই মেলা বসে থাকে।
প্রতিটি মেলায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সেই জন্য পরিষদের ইউপি সদস্যরাও মেলায় রয়েছে। হিন্দু মুসলমান সকলেই মেলায় অংশ গ্রহণ করে থাকে। এটি ভালোবাসার একটি বন্ধন। ধর্মীয় কোন ভেদাভেদ এখানে নাই। সম্প্রীতির একটি অটুট বন্ধন বজায় রাখতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যেন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
স্বত্ব © দৈনিক জনতার খবর ২০২৫ | ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।