
মনির আহমদ আজাদ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দলটির মনোনীত প্রার্থী হলেন আলহাজ্ব নাজমুল মোস্তফা আমিন। দীর্ঘদিন পর জোটমুক্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় এই আসনে বিএনপির জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, অতীতে একাধিকবার এই আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে নিজস্ব দলীয় প্রার্থী দিয়ে মাঠে নামা এবারের নির্বাচন বিএনপির জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কোন্দল বা গ্রুপিং না থাকাও নাজমুল মোস্তফা আমিনের জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নাজমুল মোস্তফা আমিন ব্যক্তিগত জীবনে মেধা, মনন ও মানবিক গুণাবলীর জন্য পরিচিত। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন ভদ্র, সদালাপী ও জনবান্ধব ব্যক্তি হিসেবে সুপরিচিত। ধর্মীয় চেতনা ও আধ্যাত্মিকতার প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে।
তার পারিবারিক ইতিহাসেও আধ্যাত্মিকতার ছাপ স্পষ্ট। তাঁর পিতা ছিলেন আধ্যাত্মিক জগতের বহুল আলোচিত ও সম্মানিত একজন ব্যক্তি। সেই ধারাবাহিকতায় পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে নাজমুল মোস্তফা আমিন পীর-আউলিয়া ভক্ত হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি তিনি ঢাকার জৈনপুর দরবারে গিয়ে পীর এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীর কাছ থেকে দোয়া গ্রহণ করেন, যা ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এছাড়াও নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন পীর-আউলিয়ার মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে বিরল সম্মানের আসন করে নিয়েছেন। তাঁর নির্বাচনী সফরে যেখানে যান, সেখানে স্বতঃস্ফূর্ত জনসমাগম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, তাঁর আচরণে অহংকার নেই, আছে বিনয় ও আন্তরিকতা—যা ভোটারদের আকৃষ্ট করছে।
সব মিলিয়ে, জোটমুক্ত নির্বাচন, দলীয় ঐক্য, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও ধর্মীয়-আধ্যাত্মিক ভাবমূর্তি চট্টগ্রাম-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনকে একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে। আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে ফলাফল কী দাঁড়ায়, সে দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক অঙ্গনের।