ঢাকা-২ সংসদীয় আসনের নির্বাচনী মাঠে হঠাৎ করেই বদলে গেছে হিসাব–নিকাশ। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন রিটার্নিং কর্মকর্তার বাতিলের আদেশ খারিজ করে জামায়াত প্রার্থী কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হকের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে।
ফলে এই আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত হলো। জামায়াত প্রার্থী কর্নেল হকের পাশাপাশি বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আমানউল্লাহ আমান এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জহিরুল ইসলামও নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থী পুনর্বহাল ভোটের সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে এবং প্রতিটি ভোটার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নয়াবাজার এলাকার ভোটার আবদুস সালাম বলেন:"মনোনয়ন বাতিল হওয়ার খবর শুনে হতাশ হয়েছিলাম। এখন কর্নেল হক সাহেব ফিরে আসায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোরালো হয়েছে। ভোটারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ বেড়ে গেছে।"
কেরানীগঞ্জের গুইটা এলাকার গৃহবধূ রোকসানা বেগম বলেন,"একতরফা নির্বাচন হলে সাধারণ মানুষের আগ্রহ থাকে না। এবার অন্তত ভোট দেওয়ার পরিবেশ হবে এবং প্রার্থীদের কাছে ভোটারদের গুরুত্ব বাড়বে।
কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’ (রাওয়া)-এর সভাপতি। সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও তিনি দীর্ঘদিন সক্রিয়।
প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর তিনি বলেন:
"আমি আইন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থাশীল। ঢাকা-২ আসনের মানুষের অধিকার রক্ষা ও এলাকার উন্নয়নই আমার রাজনীতির লক্ষ্য।"
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জামায়াত প্রার্থীর প্রত্যাবর্তনে ঢাকা-২ আসনে নির্বাচন আরও উত্তাপপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিএনপির প্রার্থী আমানউল্লাহ আমান এবং ইসলামী আন্দোলনের জহিরুল ইসলাম–এর সঙ্গে ত্রিমুখী লড়াই ভোটের ফলাফলকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
বিশেষ করে নতুন ভোটার ও সামাজিক সংগঠনগুলো এই লড়াইকে মনোযোগ দিয়ে দেখছে। প্রার্থী প্রত্যাবর্তন কেবল ভোটের সংখ্যা নয়, এলাকার রাজনৈতিক উত্তাপও বৃদ্ধি করেছে।