রাতুল ইসলাম লিমন
আবারও মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ইরানে চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থান এবং তেহরানের কড়া প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে অস্থির হয়ে উঠছে।
ইরানে বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় শুরু থেকেই দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, গত কয়েক সপ্তাহে অঞ্চলটিতে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ স্থানান্তর করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে সরাসরি হামলা চালায়, তাহলে কি চুপ থাকবে তেহরান? সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা বলছে, এমন সম্ভাবনা খুবই কম। চলতি বছরের জুনে নিজেদের পরমাণু স্থাপনায় হামলার জেরে কাতার ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইরান। একইভাবে ইসরায়েলের হামলার পরও পাল্টা জবাব দিতে দ্বিধা করেনি দেশটি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সেনাঘাঁটি ও নাগরিকরা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। কারণ, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার আওতার মধ্যেই রয়েছে ওই অঞ্চলে থাকা প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনা ও বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা।
কাউন্সিল অন ফরেইন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১৯টি স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে সবচেয়ে বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন আছে। পাশাপাশি মিসর, ইরাক ও জর্ডান থেকেও নিয়মিত নজরদারি ও সামরিক মহড়া চালানো হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি কাতারের আল উদেইদ এয়ারবেইজ। সেখানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বসবাস করেন। শতাধিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে এই ঘাঁটিতে। অন্যদিকে বাহরাইনের নৌঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র পুরো অঞ্চলে শক্তিশালী নৌ-সমর্থন পায়। এখানেই অবস্থান করছে মার্কিন নেভির পঞ্চম নৌবহর এবং গুরুত্বপূর্ণ বিমানবাহী রণতরী।
যদিও ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে দুর্বল বলে মনে করা হয়, তবুও পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করে হামলা চালালে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করার সামর্থ্য দেশটির রয়েছে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। তবে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার ক্ষমতা ইরানের আছে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ধারণা নেই।