প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 11, 2026 ইং
ফতুল্লায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, যৌথবাহিনীর অভিযানে ছাত্রদল নেতা দোলনসহ আটক ৮

মো: নাজমুল আহসান জাবেদ
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে হওয়া এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (তারিখ) বিকেলে ফতুল্লার শিহাচর হাজীবাড়ি মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ফতুল্লা থানা তাঁতী দলের সভাপতি ইউনুস মাস্টার এবং কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। কলকারখানার ওয়েস্টেজ মাল নিয়ন্ত্রণ, ভূমি দখল, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও স্থানীয় মাতব্বরীকে কেন্দ্র করে এই বিরোধ আরও তীব্র হয়।
শনিবার দুপুর থেকে উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে দুই পক্ষ কয়েকশত নেতাকর্মী ও সন্ত্রাসী নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় ধারালো দেশীয় অস্ত্র ও হাত বোমার ব্যবহার করা হয়। একাধিক বোমা বিস্ফোরণের ফলে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধারালো অস্ত্র ও ইটপাটকেলের আঘাতে অন্তত ৮ জন আহত হন।
প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট ধরে চলা সংঘর্ষে সাধারণ মানুষ ভয়ে দোকানপাট বন্ধ করে ঘরে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাবের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে উভয় গ্রুপের ৮ জনকে আটক করে।
আটককৃতরা হলেন— কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোলন, আকাশ, জুয়েল, রিয়াজুল, রাজিব, জিহাদ ও রশিদ।
পুলিশ জানায়, আটককৃতদের কয়েকজনের কাছ থেকে গাঁজা ও হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া বিস্ফোরিত বোমার কিছু অংশও জব্দ করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উভয় গ্রুপের নেতাসহ তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, “সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
স্বত্ব © দৈনিক জনতার খবর ২০২৫ | ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।