রাকিব জামান
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ডুমুরিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন শেখ ও (৪,৫,৬) সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য নাসরিন বেগমের বিরুদ্ধে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে একাধিক পরিবারের কাছ থেকে।
অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে সংবাদ সংগ্রহকালে দেখা যায়, ০৫ নং ডুমুরিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন ও সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য নাসরিন বেগম তার নির্বাচনীয় এলাকা থেকে ভিডব্লিউবি (ভিজিডি) কার্ড, বয়স্ক, বিধবা, মাতৃত্বকালীন, টিসিবি কার্ড ও সরকারি ঘর করে দেওয়ার কথা বলে অসহায় দরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পরেই নতুন অর্থবছরের ভিডব্লিউবি (ভিজিডি) কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ডুমুরিয়া ইউনিয়নের ০২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মহিউদ্দিনের মেয়ে এর কাছে থেকে ৮,৫০০ টাকা নিয়ে চালের কার্ড দিয়ে আবার নাম কেটে পাশের বাড়ি মানছুরা আক্তার নামে একজনের কাছে ৮,৫০০ টাকায় কার্ড দিয়েছে এবং ঐ কার্ডে দেখা যায় স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ৪ মাসের চাল উত্তলন করে নিয়েছে নিজাম উদ্দিন প্যানেল চেয়ারম্যান ২। জাকির নামের একজনের কাছের থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেওয়ার কথা বলে ১০,০০০ হাজার টাকা নিয়ে ঘর দেয় নাই এমন কি টাকা ফেরত চাইলে আরো টাকা দাবি করে, ৩। ছাইফুল নামের একজনের কাছের থেকে ভিজিডি কার্ড দেওয়ার কথা বলে ৭৫০০ টাকা নিয়েছে ৪। এমদাদুল নামের একজনের কাছের থেকে ৭৫০০ টাকা নিয়েছে। ভুক্তভুগীরা আরো বলেন যে প্যানেল চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন ও তার বড় ছেলে মিলে এই অপকর্ম করে আাসছে দীর্ঘদিন ধরে।
মহিলা মেম্বার ও তার স্বামী হাবিবুর রহমান তালুকার (যিনি ডুমুরিয়া ইউনিয়নের যুবলীগের সভাপতি) আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেওয়ার কথা বলে নিচের ভুক্তভুগীদের কাছে থেকে টাকা নিয়েছে। ভুক্তভুগীরা হলেন ১। ঘর দেওয়ার কথা বলে নুরজাহান, পিতাঃ তাছিন উদ্দিন হাওলাদার এর কাছ থেকে ১৫,৫০০ টাকা নিয়েছে ২। শারমিন নামের একজনের কাছ থেকে ১০০০০ হাজার টাকা ৩। রফিকুল নামের একজনের কাছের থেকে ১০০০০ হাজার টাকা নিয়ে ৮ মাস পরে ৩০০০ হাজার টাকা ফেরত দেয় আর বাকি ৭০০০ হাজার টাকার বিনিময়ে চালের কার্ড করে দেয়।
এই বিষয় তাহার মহিলা মেম্বারের সাক্ষাৎকার নেয়ার জন্য তাহার মুঠোফোনে ফোন দিলে তাহার মেয়ে এবং ছেলে ফোন ধরে একেক সময় এক এক কথা বলছে। তাহার বাড়িতে গেলে বাড়ির অন্য সদস্যরা বলেন উপজেলায় আছেন, আবার বলছেন চিতলমারীতে আছেন।
এ বিষয়ে ডুমুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে ইউপি প্যালেন চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎকার নিতেগেলে জানা যায় সে গত ৪ দিন পরিষদে আসে না, স্থানীয় কয়েকজন বলেন তিনি ঠিকমত পরিষদে আসেন না। গত ৪ দিন যাবত মুঠোফোনে ফোন দিলে তাকে পাওয়া যায়নি, আজ তাকে পাওয়া গেলে তিনি বলেন আমি পরিষদের থেকে দুই দিন ছুটি নিয়েছি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছের থেকে এবং আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তপুর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।