প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 8, 2026 ইং
বকেয়া উত্তোলনের অভিযানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় গ্রাহকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে

আনোয়ারুল ইসলাম জুয়েল
বিদ্যুৎ গ্রাহকগন বকেয়া বিল সময়মতো পরিশোধ করতে না পারায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় গ্রাহকরা এখন চরম ভোগান্তি পড়েছেন। চলমান শৈত্য প্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্থ ও ঠান্ডায় কাজ-কর্ম না থাকায় এবং ব্যবসা-বানিজ্যে তেমন আয় করতে না পারায় গ্রাহককুল এখন বিপাকে রয়েছেন। অপর দিকে আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমের হাল কৃষির খরচ যোগাতেও সকলকেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ঠান্ডায় অনেকেই পারিবারিক ভাবে শীত জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার খরচ চালাতে পারছেন না। অনেকেই অর্থের অভাবে শীত নিবারনের জন্য গরম কম্বল,সুয়েটার ইত্যাদি কাপড়ও কিনতে না পারায় মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছেন। এমতাঃবস্থায় বকেয়া বিদ্যুত বিল পরিশোধ করা তাদের কাছে যেন মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাড়িয়েছে। তাছাড়াও ক্ষু্দ্র ও মাঝারী ব্যবসায়ী, বেসরকারী স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠান গুলোর মাসিক বিল ব্যাংক কর্তৃক সময় মতো প্রদান করেন না। প্রতিষ্ঠান গুলোর অনেক তৃত্বীয় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের মাসিক বেতন থেকে ব্যাংক কিস্তির টাকা অমানবিক ভাবে কর্তন করে নেয়ায় তারাও অসহায় হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় জনৈক বদরুদ্দোজা জানান, ব্যাংকের লোনের কিস্তি আর পল্লী বিদ্যুতের বকেয়া বিলের মাঝে সমান্তরাল একটি স্বার্থ বিরাজমান। গতকাল বুধবার কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চিলমারী জোনাল অফিসে সরেজমিন গিয়ে এমন অনেক অভিযোগকারীদের সাথে কথা হলে তারা তাদের ভূতুরে বিল, মিটার, সংযোগ বিচ্ছিন্ন, মিটার ও সংযোগ তার খুলে নিয়ে এসে তা না লাগানো, আবেদন করেও নতুন মিটার পেতে বিলম্ব করা, অনেক ক্ষেত্রে কর্মীদের নিকট হেয় হওয়া সহ নানা অসুবিধা এবং ভোগান্তির কথা জানান। রমনা ১নং ওয়ার্ডের সরকার বাড়ি এলাকার সফিকুল ইসলাম জানান আমার বাড়ির উপর দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন চলেগেছে যা এত নীচুযে উচু হয়ে হাত দিয়েও ধরা যায়। তিনি অনেকবার পল্লী বিদ্যুতের কর্মীদেরকে বিষয়টি অবহিত করলেও তারা শোনেন না। উপরন্তু এ কাজটি করতে তারা টাকা চেয়েছেন বলেও সফিকুলের অভিযোগ। গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাশিম বাজারের বাসিন্দা বাদশা মিয়ার অভিযোগ, তার অন্য বাড়িতে একটি মিটার সংযোগ রয়েছে যেখানে তার কম বিদ্যুৎ ব্যয় হয়। ফলে প্রায়ঃশই তিনি মিনিমাম বিল পরিশোধ করেন। প্রায় ৭ মাস আগে এ অবস্থায় পল্লী বিদ্যুতের লোকজন তার বাড়িতে লাগানো মিটারটি খুলে নিয়ে আসেন। বারবার যোগাযোগ করেও বাদশা মিয়াকে আজ অবধি পল্লী বিদ্যুৎ মিটারটি ফেরৎ প্রদান করেননি। শুধু এতেই পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা ক্ষান্ত হয়নি, এমনকি উক্ত মিটারের বিদ্যুৎ সংযোগ তারটিও অবশেষে খুলে এনেছেন। থানাহাট বাজারের রিয়াদ-মাহী বিল্ডিং এর বিদ্যুৎ সংযোগটি ব্যবহারকারীদের সাথে যোগাযোগ না করেই অনেকটা আক্রোশ মূলক ভাবে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে পাওয়া যায় এখনও শতশত বানিজ্যিক মিটারের বকেয়া বিল থাকা সত্বেও বিদ্যুতের কর্মীরা বকেয়াধারীদের সাথে যোগাযোগ করে বাড়তি সুবিধা গ্রহন করছেন। এ ব্যাপারে চিলমারী জোনাল অফিসের ডিজিএম ফকর উদ্দিনের মুখোমুখি হলে তিনি জানান, দীর্ঘদিন তিনি ছুটিতে ছিলেন, এখন পল্লী বিদ্যুতের যাবতীয় সমস্যা গুলো তিনি আন্তরিক ভাবে সমাধান করার আশাবাদ ব্যক্ত করে সকলেরই সহযোগিতা কামনা করেছেন।
ভূক্তভোগি গ্রাহকগন অবিলম্বে পল্লী বিদ্যুতের বিলিং কাগজ বা বিল শীট যা সাধারন গ্রাহকদের কাছে বুঝতে ঝামেলা হয় এমন বিলশিটের সংশোধন সহ যাবতীয় সেবা নিশ্চিত করনের দাবী করেছেন।
স্বত্ব © দৈনিক জনতার খবর ২০২৫ | ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।