প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 6, 2026 ইং
দেশের সমসাময়িক শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন চাই

মিরজুল ইসলাম মিরাজ
স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে আজও পর্যন্ত দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা শুধুমাত্র পাঠ্যবই নির্ভরশীল। এ যেন একটি কৃত্তিম/প্রাণহীন, নিরানন্দ, বিস্বাদ ও রসহীন শিক্ষা পদ্ধতি। পড়ার টেবিলে পাঠ্যবইয়ের সাথে একগাদা গাইড, হাতে কলম, সম্মুখে খাতা, সেই সাথে মুখস্ত বিদ্যা; সাথে অতিরিক্ত ব্যাচ, প্রাইভেট, কোচিং ইত্যাদি তো আছেই। এ যেন এক কঠিন পাথরে ফুল ফোটানোর চেষ্টা। যার ফলে শিশুদের সৃজনশীল, কর্মদক্ষতা, মেধা ও মনোনবিকাশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বাধা সৃষ্টি করছে। আর আমরা সেই কৃত্রিম ও রসহীন শিক্ষাকেই, শিক্ষার অগ্রগতি হয়েছে বলে সাফাই গাইছি। এমন প্রাণহীন, বিস্বাদ শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যই প্রাথমিক স্তরেই ঝরে পড়ছে লাখো শিক্ষার্থী। কারণ এমন শিক্ষাকেই তাদের উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
আমরা চাই সমসাময়িক এই শিক্ষাকে প্রাণবন্ত করে তুলতে, পড়ার টেবিল, পাঠ্যবই, খাতা-কলমের বাইরে গিয়ে জীবন ও বাস্তবমুখী কর্মশিক্ষা গ্রহণ; শিশুদের শারীরিক ও মানসিকভাবে গড়ে তুলতে।
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের, শিক্ষার নামে মানসিক চাপ না দিয়ে, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নেতৃত্ব ও মেধাবিকাশের জন্য 'সহ-শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি, শরীরচর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে আগামীর ভবিষ্যৎ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে, শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি জ্ঞান দান বাধ্যতামূলক করতে হবে; জ্ঞান, বিজ্ঞান ও গবেষণায় তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের কৌশলগত শিক্ষার মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে; একই সাথে শিক্ষক ও শিক্ষার মান নিয়ে সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। শিক্ষাকে বাস্তবমুখী, প্রাণবন্ত, প্রযুক্তি সমৃদ্ধ, ও আনন্দময় করে তুলতে শিক্ষক, অভিভাবক ও সরকারের যুগান্তকারী পরিবর্তন চাই।
স্বত্ব © দৈনিক জনতার খবর ২০২৫ | ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।