প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 6, 2026 ইং
ঝিনাইদহে মাটি খেকোদের দৌরাত্ম, টপ সয়েল যাচ্ছে ইট ভাটায়

সুমন কুমার বিশ্বাস
ঝিনাইদহ জেলা জুড়ে দিন দিন বেড়ে চলেছে মাটি খেকোদের দৌরাত্ম। প্রশাসন প্রায়ই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে করছে জরিমানা। কিন্তু কোন এক অদৃশ্য শক্তির বলে আবারো সরব হয়ে উঠছে এসকল মাটি খেকোরা। কেউ কেউ প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের নাম ব্যবহার করে কৃষি জমির টপ সয়েল ও পুকুর খনন করে মাটি বিক্রি করছেন ইট ভাটায়। কেউবা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা, পুলিশ ও সাংবাদিকসহ স্থানীয় নেতাদের ম্যানেজ করে চালিয়ে নিচ্ছেন ব্যবসা। আর এতে ব্যবহার করা হচ্ছে অবৈধ ট্রলি যুক্ত ট্রাক্টর। যেগুলো প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রাণ যাচ্ছে অনেকের, আবার কেউ হচ্ছেন পঙ্গু। এসকল অবৈধ যানবাহন সড়কে চলাচলের ফলে নষ্ট হচ্ছে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়ক। জেলার ছয়টি উপজেলায় একই চিত্র।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বোরো মৌসুমের অল্প সময় বাকি। কৃষকদের বীজতলায় শোভা পাচ্ছে সবুজ ধানের চারা। সদ্য রোপা আমন ধান কেটে ঘরে তুলেছে কৃষক। খালি পড়ে আছে এসব জমি। আর এই সুযোগে কিছু অসাধু মাটি খেকো দানব কৃষি জমির টপ সয়েল কেটে নিয়ে ইট ভাটায় বিক্রি করছে। যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি জমি, কমছে উৎপাদন ক্ষমতা। আর এসব মাটি বহনে ব্যবহার হচ্ছে অবৈধ ট্রলি যুক্ত ট্রাক্টর। উচ্চ শব্দে মাটি ভর্তি এসব গাড়ি অবাধে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সড়ক ও মহাসড়ক দিয়ে। মাটি ভর্তি এসব গাড়ি চলাচলের ফলে সড়কগুলো বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দিনের চেয়ে রাতের বেলায় বেশি সক্রিয় এসব মাটি খেকো ব্যবসায়ীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন মাটি ব্যবসায়ী জানান, বিগত বছরগুলোর মতো এবছরও স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তা, পুলিশ, সাংবাদিক ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে করছেন মাটির ব্যবসা। অনেকেই বলেছেন, টাকা দিলে ভালো, না দিলে হতে হয় হয়রানি। বেশি ঝামেলা করে পুলিশ ও কিছু নামধারী সাংবাদিক।
মান্নান নামে এক মাটি ও বালু ব্যবসায়ী জানান, সবাইকে টাকা দিয়ে কাজ করতে হয়। টাকা নিলেও দায়িত্ব নিতে চায় না কেউই। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত এলে আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয়। এখন নতুন নতুন ব্যবসায়ী তৈরি হয়েছে। তাঁরা সবাই অমুক নেতা তমুক নেতার নাম বলে ব্যবসা করছে। তাদের দাপটে আমাদের মত পুরোনো ব্যবসায়ীরা অসহায়।
পরিবেশ অধিদপ্তর ঝিনাইদহের সহকারী পরিচালক মোঃ মুন্তাছির রহমান বলেন, কৃষি জমির টপ সয়েল রক্ষায় পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও প্রান্তিক কৃষকদের নিয়ে ইতিমধ্যেই একটি ওরিয়েন্টেশন করেছে। এবিষয়ে কৃষকদের সদিচ্ছা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঝিনাইদহের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ কামরুজ্জামান জানান, কৃষি জমির সিংহভাগ পুষ্টি উপাদান থাকে টপ সয়েলে। কিছু অসাধু ব্যক্তি টপ সয়েল কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে। জমি হারাচ্ছে উৎপাদন ক্ষমতা। জমির টপ সয়েল রক্ষায় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রতিনিয়ত সচেতন করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসউদ এ বিষয়ে বলেন, কৃষি জমির টপ সয়েল রক্ষায় সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ কে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। তথ্য পেলে সাথে সাথেই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
স্বত্ব © দৈনিক জনতার খবর ২০২৫ | ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।