প্রতিনিধিঃচাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে
ভারতে প্রবেশের পর বিএসএফের হাতে আটক রবিউল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশির মৃত্যুর
অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে কিভাবে সে মারা গেছে এ বিষয়ে পরিবার ও বিজিবির পক্ষ থেকে
আনুষ্ঠানিক কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। এঘটনায় বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পতাকা বৈঠকে বিএসএফ জানিয়েছে অসুস্থতাজনিত কারনে তার মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন
বিএসএফের হাতে আটকের পর তাদের নির্যাতনেই মারা গেছে রবিউল। নিহত রবিউল ইসলাম (৩৫)
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের সাতরশিয়া গ্রামের নিজাম উদ্দিনের
ছেলে। বিজিবি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোররাত আনুমানিক
রাত সাড়ে ৪টার দিকে আর্ন্তজাতিক সীমান্ত পিলার ১৯/৭ এস এলাকা দিয়ে তিনজন বাংলাদেশি গরু
চোরাচালানের উদ্দেশ্যে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার নুরপুর এলাকায় প্রবেশ করে। এ সময়
রঘুনাথগঞ্জ থানা এলাকার বিএসএফের পাতলা টোলা সাব-ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের ধাওয়া করলে
অন্যারা পালাতে সক্ষম হলেও রবিউল বিএসএফের হাতে ধরা পড়ে।আটকের পর আজ সকালে তার
মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিকেলে বিজিবির কাছে অভিযোগ দেয় রবিউলের পরিবারের।
এ বিষয়ে নারায়ণপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রমজান আলী বলেন, ভোর রাতে
তিনজন মিলে গরু আনতে ভারতে যায়। পরে জানতে পারি রবিউল ইসলামকে বিএসএফ ধরে নিয়ে গেছে।
এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর পাই। তবে তিনি দাবি করেন আটকের পর নির্যাতনে তার
মৃত্যু হয়েছে।এ বিষয়ে ৫৩ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান জানান,
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর বিএসএফের কাছে জানতে চেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় পতাকা
বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠকে বিএসএফ জানিয়েছে, খালি গায়ে ও হ্যাফ প্যান্ট পরা অবস্থায়
রবিউলকে আটক করা হয়। এ সময় তার পুরো শরীর পানিতে ভেজা ছিলো। পরে ক্যাম্পে নেওয়ার পর
তাকে জামা-কাপড় দেয়া হলেও তার শরীরে খিচুনি দেখা দেয়। এ সময় তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে তার
মৃত্যু হয়। বিএসএফ জানিয়েছে আগামীকাল সোমবার তার মৃতদেহ হস্তান্তর করা হবে। বিএসএফের
দেয়া তথ্য অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে অসুস্থতাজনিত কারনে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে লাশ ফেরত
পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে এই মৃত্যুর পেছনে অন্য কোন কারণ রয়েছে কিনা।