খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে ঘটে যাওয়া একটি অমানবিক ঘটনা.... অন্যের জীবন বাঁচাতে এসে নিজের জীবন ধারণের একমাত্র অবলম্বনটি হারালেন এক তরুণ ভ্যানচালক।
এক মুমূর্ষু রোগীর প্রাণ বাঁচাতে মানবিকতার খাতিরে দ্রুত গতিতে ভ্যান চালিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন ওই তরুণ। উদ্দেশ্য ছিল একটাই—যথা সময়ে রোগীকে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তাড়াহুড়ো করে রোগীকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছে দিয়ে ফিরে এসে দেখেন, যেখানে তিনি তার ভ্যানটি রেখেছিলেন, সেখানে সেটি আর নেই।
হাসপাতালের মতো একটি স্পর্শকাতর জায়গার ঠিক জরুরি বিভাগের সামনে থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে চুরি হয়ে যায় তার পরিবারের উপার্জনের একমাত্র সম্বলটি।
চুরির পর অসহায় চালক যখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দারস্থ হন, তখন সামনে আসে আরও এক হতাশাজনক সত্য। হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সিসি ক্যামেরা বসানো থাকলেও, অভিযোগ উঠেছে যে সেগুলোর অধিকাংশ বা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের ক্যামেরাগুলো ছিল অচল। ফলে চোর শনাক্ত করা বা ভ্যানটি কোন দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা বের করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
মানবিকতা বনাম বাস্তবতা
এই ঘটনাটি সমাজে কয়েকটি বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে:
একটি বিভাগীয় শহরের প্রধান হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে থেকে গাড়ি চুরি হওয়া নিরাপত্তার চরম ব্যর্থতা।
একজন মানুষ যখন অন্যকে সাহায্য করতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সুযোগটি ব্যবহার করে তার ক্ষতি করা চরম অমানবিকতা।
গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা অকেজো হয়ে পড়ে থাকা প্রশাসনের গাফিলতিকেই নির্দেশ করে।
ভ্যানটি হারিয়ে ছেলেটি আজ দিশেহারা। পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার যে সম্বলটুকু তার ছিল, তা কেড়ে নিয়েছে একদল সুযোগ সন্ধানী অপরাধী। মানুষের উপকার করতে গিয়ে তাকে যে চরম মূল্য দিতে হলো, তা হয়তো আগামীতে অনেককেই অন্যকে সাহায্য করার আগে দশবার ভাবতে বাধ্য করবে। আশা করি, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখবে এবং ওই অসহায় চালককে তার ভ্যানটি ফিরিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।