প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 2, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 4, 2026 ইং
টাঙ্গাইল ৮ ত্রিমুখী লড়াইয়ে বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ

এম কে ভুইয়া সোহেল
টাঙ্গাইল-৮ আসনে নির্বাচনী উত্তাপ
মাঠে নেই বঙ্গবীর,ত্রীমুখী ভোটযুদ্ধে প্রার্থীরা
এম কে ভুইয়া সোহেল,বাসাইল:
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল-৮(বাসাইল-সখীপুর–) সংসদীয় আসনে ক্রমেই বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। হাট-বাজার, চায়ের দোকান কিংবা জনসমাগম পূর্ণ এলাকায় এখন আলোচনার কেন্দ্রে রাজনীতি। কৃষক শ্রমিক জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দীকী বিরোত্তমহীন নির্বাচনে কে হচ্ছেন পরবর্তী সংসদ সদস্য এ নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যের লক্ষ করা যাচ্ছে বাড়তি আগ্রহ।
এবারের নির্বাচনকে ঘিরে এই আসনে রাজনৈতিক কৌতূহল অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের দখলে থাকা এই আসনে এবারের নির্বাচনে দলটি অংশ নিচ্ছে না। আওয়ামীলীগের সাথে মতানৈক্যের ফলে গঠিত কাদের সিদ্দীকীর নতুন রাজনৈতিক দল কৃষক শ্রমিক জনতালীগের রাজনীতীই ছিলো মূলত এই আসনকে ঘিরে। সেই দলও অন্তবতীকালীন সরকারের উপর সবাইকে নিয়ে একটি নির্বাচনী পরিবেশ তৈরীতে ব্যার্থ হওয়ার দোহাই দিয়ে অংশ নিচ্ছে না। ফলে নির্বাচনী সমীকরণে এসেছে বড় পরিবর্তন।
১৯৯১ সালের পর থেকে আসনে বিএনপি‘র কোনো প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী হতে পারেনি। দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের বাইরে অন্য কোনো দলও জয় পায়নি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে এবার সেই ধারাবাহিকতা ভাঙার জন্য আটঘাট বেধে নেমেছে বিএনপি।
এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হলেন- কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান। দলের ভেতরে শৃংন্খলা ফিরিয়ে আনতে সম্প্রতি সখিপুর ও বাসাইলের প্রথম সারির কয়েকজন নেতাকে দলীয় শৃঙণ্খলা ভঙ্গের জন্য বহিস্কার করেছে দল। বিতর্কিত ওই সব কর্মীরা গোপনে ও প্রকাশ্যে অন্য প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ গ্রহন করাতে ভোটারদের ভেতর কৌতুহলের সৃষ্ঠি হয়েছে। এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেও ওই সময়ের দলের ভেতরের এসব নেতা- কর্মী জন্য তিনি পরাজিত হয়েছেন বলে নির্বাচনের পরে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সম্প্রতি জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ককের সাথে ভুল বোঝাবুঝিসহ দু-একটি ঘটনায় আহমেদ আযম খান সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তবে দিনরাত নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। ভোটারদের সাথে দৃঢ় সম্পর্ক তৈরীর কারনে তার ভুলগুলি ভুলতে বসেছে ভোটাররা,এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও এই আসনে তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী হলেন বাসাইল উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো: শফিকুল ইসলাম খান। ক্লীন ইমেজের ব্যাক্তি হিসেবে তিনি সুপরিচিত।
বড় দুই দল বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে এই আসনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন লাবীব গ্রুপের চেয়ারম্যান সিআইপি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল। বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
সখীপুর ও বাসাইল উপজেলায় বিভিন্ন স্কুল, মাদরাসা, মসজিদ, মন্দিরসহ সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহায়তা করছেন।। যদিও তার বিরুদ্ধেও আওয়ামী লীগের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) থেকে প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাজমুল হাসান রেজা। এছাড়াও এই আসনে আরো ৬জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র কিনলেও যাচাই বাছাইয়ে তাদেও মনোননয়ন বাতিল হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভোটের মাঠে সবাই সরব।দলীয় প্রার্থীদের জন্য কাজ করলেও স্বতন্ত্রপ্রার্থীর নিজের লোকবল নিয়ে একটু ভিন্ন পলেসি অবলম্বন করছেন। তবে নির্বাচনের বাইরে থাকা আওয়ামী সমর্থীত ভোটারদের যে প্রার্থী কাছে টানতে পারবে তারাই জয়ী হবার সম্ভবনা বেশি।
সব মিলিয়ে টাঙ্গাইল-৮ আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঘিরে দিন যতই গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। ভোটে শেষ পর্যন্ত কোন প্রার্থী বিজয়ের হাসি হাসবেন, সেদিকেই এখন তাকিয়ে পুরো সখীপুর-বাসাইল।
স্বত্ব © দৈনিক জনতার খবর ২০২৫ | ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।