
জহুরুল ইসলাম
জামালপুরের সরিষাবাড়ীস্থ্য তারাকান্দি যমুনা সার কারখানা কোম্পানী লিমিটেড এর প্রধান ফটক দখল করে ঠিকাদার কর্তৃক শ্রমিকদের বেতন বন্ধের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে কারখানায় দৈনিক মজুরি ভিত্তিক শ্রমিক কর্মচারিরা।
শনিবার ৩ জানুয়ারি সকালে যমুনা সারকাখানার প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা।
শ্রমিকেরা জানায়, যমুনা সার কারখানা কোম্পানি লিমিটেড এর বিভিন্ন বিভাগ/শাখায় নানাবিধ কাজের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরির দৈনিক মজুরী ভিত্তিক শ্রমিক কর্মচারী কারখানা চলাকালীন ২৩৯ জন এবং কারখানা বন্ধকালীন ১৬৫ জন পদে জনবল সরবরাহের জন্য গত ২১/০৮/২০২৫ইং তারিখে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কার্যাদেশ গ্রহণ করে মেসার্স "আল-মমিন আউটসোর্সিং সার্ভিসেস লিঃ" হাতিরপুল, ঢাকা।
কার্যাদেশ পাওয়ার পর গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের সম্পূর্ণ বেতন পরিশোধ করছে কিন্তু হঠাৎ করেই গত নভেম্বর মাসের বেতন বন্ধ করে দেয় ঠিকাদার। এতে করে দৈনিক মজুরী ভিত্তিক ১৯০ জন শ্রমিকের বেতন বন্ধ হওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে দূর্বিষহ জীবন পার করছেন।
বার বার যমুনা কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারকে জানিয়েও আমরা আজ পর্যন্তও বেতন পাই নাই তাই বাধ্য হয়েই আন্দোলনে নেমেছি। যদি দ্রুত বেতন পরিশোধ না করে তাহলে আমরা কঠিন আন্ধলনে নামতে বাধ্য হবো।
এ বিষয়ে যমুনার পক্ষে উপ-মহাব্যাবস্থাপক (প্রশাসন) মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঠিকাদার অযথা শ্রমিকদের বেতন বন্ধ করে দিয়ে আমাদের প্রশাসনের বিরোদ্ধে নানা ধরনের মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে। অসহায় শ্রমিক যারা সারা মাস ধারদেনা করে সংসার চালায় আর মাস শেষে বেতন পেয়ে পরিশোধ করে সেই সকল শ্রমিকদের বেতন আটকে দিয়েছে। আমি তাদের বেতনের পরিশোধের জন্য গত ১৮ ও ২৯ ডিসেম্বর দুটি চিঠির মাধ্যমে ২৩৯ জন শ্রমিকের বেতন পরিশোধের কথা জানালেও সে বেতন পরিশোধ না করায় শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) কে জানিয়েছি তারা ঠিকাদারকে নোটিশ করে গত ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বেতন পরিশোধ করে প্রমানাধি প্রেরনের নির্দেশ প্রদান করলেও এখনো বেতন পরিশোধ করে নাই। বেতন না পেয়ে শ্রমিকদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এতে করে "জেএফসিএল"র সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে বিধায় বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে পরিস্থিতি প্রতিবেদন প্রেরণ করেছে। ঠিকাদার শ্রমিকদের বেতন বন্ধ করে খুবই অমানুবিক কাজ করেছে আমি চাইবো অযথা বিভ্রান্ত না ছডিয়ে যমুনার চুক্তি অনুযায়ী কাজ করুক অসহায় শ্রমিকদের বেতন দ্রুত পরিশোধ
এ বিষয়ে মেসার্স "আল-মমিন আউটসোর্সিং সার্ভিসেস লিঃ" এর মালিক মোঃ মমিনুল ইসলাম জানান, "দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা ২০২৫" মোতাবেক এবং চুক্তি কার্যাদেশ অনুযায়ী সকল শ্রমিক আমাদের প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করার কথা। কিন্তু আমাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে "জেএফসিএল" এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহোদয় ও উপমহাব্যবস্থাপক প্রশাসন কে বারবার অবহিত করেও চুক্তি ও কার্যাদেশ অনুযায়ী অদ্যাবধি মাত্র ২৪ জন শ্রমিক ছাড়া কোন শ্রমিক। তারপরেও সকল শ্রমিকের গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের সম্পূর্ণ বেতন পরিশোধ করেছি। বিগত প্রায় ৪ মাস যাবত কোন সমাধান না পেয়ে বাধ্য হয়ে নভেম্বর'২০২৫ইং মাসের ১৯০ জন শ্রমিকের বেতন সাময়িক ভাবে বন্ধ রেখেছি। কারখানার উপ মহাব্যবস্থাপক প্রশাসন মোঃ দেলোয়ার হোসেন "দৈনিক ভিত্তিতে সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিত করণ নীতিমালা ২০২৫" এর ধারা ৫ এবং "জেএফসিএল" এর সাথে আমাদের প্রতিষ্ঠানের চুক্তির শর্ত সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে নিয়োগ করায় সেই সকল শ্রমিকের নভেম্বর ২০২৫ইং মাসের মজুরী সাময়িক ভাবে স্থগিত করেছি। আর আমার প্রতিষ্ঠানের দেয়া ২৪ জন এবং "জেএফসিএল" এর চুক্তি মোতাবেক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া ২৫ জনসহ মোট ৪৯ জন শ্রমিকের নভেম্বর' ২০২৫ মাসের মজুরী পরিশোধ করেছি। "জেএফসিএল" এর চুক্তি অনুযায়ী আমাদের প্রতিষ্ঠান উপরোক্ত শ্রমিক নিয়োগ প্রদানের পর ১৯০ জন শ্রমিকের মজুরী পরিশোধ করা হবে। বিষয়টি সমাধান সাপেক্ষে উক্ত মজুরী "কর্মী সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল" এ জমা দেয়া হবে।