
আদিত্য চৌধূরী
কালের পরিক্রমায় মহাকালের গর্ভে বিলীন হলো আরও একটি বছর। সব জরা আর জীর্ণতাকে পেছনে ফেলে ভোরের নতুন সূর্যের সাথে আগমন ঘটেছে নতুন বছরের। বিগত বছরগুলোর অপ্রাপ্তি আর দুঃখ ভুলে গিয়ে এক নতুন উদ্দীপনায় সুন্দর এক বাংলাদেশ গড়ার শপথ এখন সবার কণ্ঠে। কেবল তাই নয়, বরং শান্তি, সমৃদ্ধি আর সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আসুক এই নতুন বছর এমনই প্রত্যাশা দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণের।
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা নতুন বছরকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে জানিয়েছেন তাদের প্রত্যাশার কথা। নতুন বছরে তারা প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি ও সাফল্য কামনা করেছেন তাদের নানামুখী পরিকল্পনায়। তাদের সেসব চিন্তাভাবনা তুলে ধরেছেন 'দৈনিক জনতার খবর' এর রাবিপ্রবি প্রতিনিধি আদিত্য চৌধূরী।
ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলোজি বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে সালমা লাবণ্য জানান, ২০২৬ সালে আমরা রাবিপ্রবিকে একটি আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই। উন্নত ল্যাব ও প্রশিক্ষণ সুবিধার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ হোক। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজ দ্রুত সম্পন্ন হোক এবং ক্যান্টিনের মানোন্নয়নসহ শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ দূর হোক। সব মিলিয়ে রাবিপ্রবি হোক স্বপ্নবুননের এক সুন্দর ঠিকানা।
ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী সানি দেওয়ানজী বলেন, নতুন বছরে নতুন স্বপ্ন নিয়ে শুরু হোক আমাদের রাবিপ্রবির পথচলা। আমরা প্রত্যাশা করি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় আরও উদ্ভাবনী চিন্তা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ,গবেষণা ও সৃজনশীলতার এক উজ্জ্বল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠুক। শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যুর, ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্ট টক সেশন চালু করা হলে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী ধ্যান-ধারণা হবে এবং এতে আমার বিভাগসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক মান বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছি।
ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী অনুরাগ দাশ গুপ্ত জানান, কাপ্তাই হ্রদ ও পাহাড়ের বুক চিরে গড়ে ওঠা আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়। নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নানান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই অবিরাম নিজের উপস্থিতির জানান দিচ্ছে রাবিপ্রবি। ল্যাবরেটরি সুবিধার সম্প্রসারণ, শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা বৃদ্ধি, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন, ক্যান্টিনের খাবারের মান বৃদ্ধি ও মূল্য সহনীয় পর্যায়ে আনা, অভ্যন্তরীণ চলাচলের রাস্তা উন্নতকরণ ও বিকল্প রাস্তা তৈরী করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত বসার স্থান নিশ্চিত করতে পারলে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাগুলো অনেকটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোসা: ফারজানা ইশরাত বলেন, ২০২৬ সালে রাবিপ্রবিকে আমরা একটি আধুনিক ও শিক্ষাবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে দেখতে চাই। প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে পর্যাপ্ত ও আধুনিক ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি, যেন বারবার প্রজেক্টর সেটআপ বা রুম সংকটের ভোগান্তি না থাকে। শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন প্রয়োজন বিবেচনায় ক্যান্টিনে পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা এবং মেয়েদের জন্য আলাদা ও নিরাপদ নামাজের জায়গা নিশ্চিত করা জরুরি। এসব কার্যক্রম রাবিপ্রবিকে আরও এগিয়ে নিবে বলে আশা রাখছি।
ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রীপূর্ণা চাকমা জানান, রাবিপ্রবি স্বপ্ন ও সম্ভাবনায় ভরপুর একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নতুন এই বছরে রাবিপ্রবির গবেষণা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে আরও সুযোগ সৃষ্টি হলে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে এবং নানামুখী সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। এছাড়াও আধুনিক অডিটোরিয়াম, স্বাস্থ্যসম্মত ক্যান্টিন, পর্যাপ্ত ক্লাসরুম এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত যানবাহন সুবিধা অতীব জরুরি। ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদ আবাসন, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। ২০২৬ সালে রাবিপ্রবি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মানদন্ড পূরণে সক্ষম হবে বলে আশা রাখছি।