
মেহেদী হাসান হাবিবআসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের রাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়েছে। আজ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে দিনভর চলা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বড় ধরনের ওলটপালট দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক বাছাইয়েই এ আসনের ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনের মনোনয়নপত্র বিভিন্ন ত্রুটির কারণে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে আপাতত ভোটের মাঠে টিকে রইলেন তিন হেভিওয়েট প্রার্থী।
রিটার্নিং কর্মকর্তার তথ্যমতে, আইনি ও টেকনিক্যাল সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বৈধ প্রার্থী হিসেবে যারা প্রচারণার সবুজ সংকেত পেয়েছেন তারা হলেন:
যাচাই-বাছাই শেষে যে ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে তারা হলেন— মীর শরীর হাসান লেলিন, মোস্তফা আল মাহমুদ, শরিফুল ইসলাম খান ফরহাদ, শওকত হাসান খান, ওয়ারেছ খান অর্ণব এবং আনোয়ার হোসেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে কারো হলফনামায় তথ্যের গড়মিল ছিল, কেউ আবার সমর্থকের স্বাক্ষরে অসংগতি রেখেছিলেন। এছাড়া কয়েকজনের ক্ষেত্রে ঋণখেলাপি ও আয়কর সংক্রান্ত জটিলতা ধরা পড়েছে।
মনোনয়ন বাতিল হওয়া এক প্রার্থী সাংবাদিকদের বলেন, "সামান্য কিছু কারিগরি কারণে আমার মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। আমি নির্বাচন কমিশনে আপিল করব এবং আশা করি ন্যায়বিচার পাব।"
ইসলামপুর উপজেলার এই আসনটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন এলাকা হিসেবে পরিচিত। ৬ জনের মনোনয়ন বাতিলের ফলে বর্তমানে ভোটের মাঠে তিন ভিন্ন আদর্শের প্রার্থীর অবস্থান তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ভোটাররা মনে করছেন, যদি আপিলে বাতিল হওয়া প্রার্থীরা ফিরে না আসেন, তবে মূল লড়াই হবে 'ধানের শীষ' ও 'দাঁড়িপাল্লা'র মধ্যে। তবে 'হাতপাখা'র প্রার্থী কতটুকু ভোট কাটতে পারেন, তার ওপর নির্ভর করবে চূড়ান্ত ফলাফল।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, "যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তারা আইন অনুযায়ী ৫ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। সেখানে শুনানির মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।"
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আপিল প্রক্রিয়ার নিষ্পত্তি হলে ইসলামপুর আসনের নির্বাচনি মানচিত্র পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যাবে। আপাতত শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বাবু, ফারুকী ও সিরাজী।