
জিয়া পরিবারের কয়েকজন মানুষের জীবনে অতীতের কথা জানলেই কেমন যেন হয়ে যাই মনটা।
বাইরে থেকে আমরা হয়তো শুধু একজন নেতাকে দেখি, কিন্তু তার ভেতরের রক্তক্ষরণ মনটা দেখে কজন, তারেক রহমানের জীবন টা যেন এক ট্র্যাজেডির মহাকাব্য।
ছয় বছর বয়সে যখন খেলার সময়, তখন তিনি মায়ের সাথে গৃহবন্দী। একাত্তরের সেই উত্তাল দিনগুলো কেটেছে মৃত্যুভয়ে। কখন তাদের মেরে ফেলা হবে—এই আতঙ্কে কেটেছে শৈশব।
এগারো বছর বয়সে আবারও গৃহবন্দী। সিপাহি-জনতার বিদ্রোহের সেই তিন দিন বাবা-মায়ের সাথে মৃত্যুর প্রহর গুনেছেন।
পনেরো বছর বয়সে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। হারালেন বাবাকে। এতিম হলেন, হারালেন মাথার ওপরের সবচেয়ে বড় বটগাছ টা।
২০ বছর পেরোতেই দেখলেন আরেক সংগ্রাম। নিজের চোখের সামনে দেখলেন মা কীভাবে রাজপথ আর জেলখানায় লড়ছেন। দুই ভাইকে রেখে মা তখন গণতন্ত্রের জন্য রাস্তায় সংগ্রাম করছেন।
চল্লিশের কোঠায় এসে জীবন দেখাল তার সবচেয়ে নিষ্ঠুর রূপ। মা, ভাইসহ পুরো পরিবার কারারুদ্ধ। রিমান্ডের নামে ভেঙে দেওয়া হলো তার মেরুদন্ডর হাড়। তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হলো আদরের ছোট ভাইকে।
জেল থেকে বের হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন গেলেন, কিন্তু ছোট ভাই কোকো আর ফিরল না। বাবার অবর্তমানে বড় ভাই-ই তো বাবার ছায়া। অথচ সেই ছোট ভাইয়ের লাশটা পর্যন্ত ছুঁয়ে দেখতে পারলেন না, শেষ বিদায় জানাতে পারলেন না। বুকভরা হাহাকার নিয়ে দূর থেকেই বিদায় দিতে হলো আপন ছোট ভাইকে।
পঞ্চাশের ঘরে যখন পা দিলেন, তখন দেখলেন আরেক অমানবিক দৃশ্য। বৃদ্ধ, অসুস্থ মা-কে এক পরিত্যক্ত, ভুতুরে কারাগারে বন্দী করে রাখছেন স্বৈরাচার। বছরের পর বছর মা সেখানে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েছেন, বার,বার স্বৈরাচার সরকারের কাছে আবেদন করেও চিকিৎসার জন্য অনুমতি পাননি,
অবশেষে আল্লাহর রহমতে ‘জুলাই’ এল। মা মুক্তি পেলেন, চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গেলেন। ছেলের সাথে কিছুদিন কাটালেন, কিন্তু দেশের এই ক্লান্তি মুহূর্তের জন্য তাড়াতাড়ি চলে আসতে হল। নিয়তি বড় নিষ্ঠুর, ছেলে দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে চলে মা, দেশে ফেরার এক সপ্তাহ না হতেই বিদায় নিলেন সেই মমতাময়ী মা।
বাবা গেল, ছোট ভাই গেল, এখন মা-ও চলে গেলেন... এই দুনিয়ায় নিজের রক্ত বলতে, ‘আপন’ বলতে আর কেউ রইল না।
একজীবনে একজন মানুষ আর কতটা হারাতে পারে? জীবন তারেক রহমানকে যা দিয়েছে, তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি কেড়ে নিয়েছে।
আল্লাহ যেন তারেক রহমান কে এই শোক সইবার শক্তি দিন, আমিন।