প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Dec 30, 2025 ইং
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে প্রার্থী হচ্ছেন না মাসুদুজ্জামান মাসুদ

মোঃ রাতুল হাসান লিমন
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকছেন না আলোচিত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাসুদুজ্জামান মাসুদ। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনেও তিনি কোনো কাগজপত্র দাখিল করেননি।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘদিন আলোচনায় থাকা মাসুদুজ্জামান মাসুদ শেষ পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন। যদিও বিএনপির প্রথম দফায় ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল, তবে মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ায় তার প্রার্থিতা কার্যত শেষ হয়ে যায়। মনোনয়নপত্র জমা না দিলেও সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এক কর্মীসভায় মাসুদুজ্জামান তার অনুসারী নেতা-কর্মীদের ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি দলীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন।
রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও পরবর্তী সময়ে ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন মাসুদুজ্জামান। দীর্ঘ সময় সরাসরি রাজনীতিতে না থাকলেও সমাজসেবা, ক্রীড়া ও শিক্ষা খাতে তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। একই সঙ্গে নেতা-কর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোয় স্থানীয় পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়। ব্যবসায়ী হিসেবেও তিনি পরিচিত মুখ ছিলেন এবং নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
গণঅভ্যুত্থানের পর জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী মাসুদুজ্জামান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে শুরু থেকেই বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা তার প্রার্থিতার বিরোধিতা করেন। তবুও তার ঐক্যের আহ্বানে ধীরে ধীরে অনেক নেতা-কর্মী তার পক্ষে অবস্থান নেন।
গত সেপ্টেম্বরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন এবং ৩ নভেম্বর দলের প্রথম পর্যায়ের প্রার্থী তালিকায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে তার নাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু মনোনয়ন ঘোষণার পরও দলের মনোনয়নবঞ্চিত একাধিক নেতা তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিরোধিতা চালিয়ে যান।
এদের মধ্যে মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম, বর্তমান আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান এবং বিএনপিন্থী ব্যবসায়ী আবু জাফর আহমেদ বাবুল প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলন করে মাসুদুজ্জামানের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানান।
এরই মধ্যে গত ১৬ ডিসেম্বর নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন মাসুদুজ্জামান। তবে তিনদিন পর নেতা-কর্মীদের অনুরোধে আবারও নির্বাচনী মাঠে ফেরার কথা জানান। কিন্তু এর মধ্যেই দলের ভেতরে অন্য প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যোগাযোগ জোরদার করেন।
পরবর্তীতে সাখাওয়াত হোসেন খান ও আবুল কালাম আলাদা আলাদা ভাবে দলীয় মনোনয়নের দাবি করেন এবং মনোনয়ন ফরম সংক্রান্ত চিঠিও প্রদর্শন করেন। এতে করে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রকৃত প্রার্থী কে—তা নিয়ে নেতা-কর্মী ও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
শেষ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে আবুল কালাম, সাখাওয়াত হোসেন খান ও আবু জাফর আহমেদ বাবুল মনোনয়নপত্র জমা দিলেও মাসুদুজ্জামান মাসুদ কোনো কাগজপত্র জমা দেননি।
স্বত্ব © দৈনিক জনতার খবর ২০২৫ | ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।