
মোঃ ইমরানচট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ও জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের বুক চিরে বয়ে যাওয়া সাপমারা খালের মুখে গেলে এই খালের কথা সবার মুখে মুখে
। স্বাধীনতার পর থেকে সাপমারা খালের মুখে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন বিভিন্ন দলের নেতারা। তবে ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর কেউ আর খোঁজ রাখেন না। পাঁচ দশক ধরে হয় হয় করেও সেতু হয় না। ৭০ মিটারের একটি সেতুর অভাবে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে গন্তব্যে পৌঁছান শত শত মানুষ।
এড়ে কি আর ব্রিজ অইত-ন। আঁরা কি হষ্ট গরি আরা জীবন খালগান পার অইর। সরঝরোরে আঁরা কি খাজনা ন-দিই। আঁরা কি দেশর মানুষ নই। কিয়েল্লাই সরকার এড়ে ব্রিজ ন-বানার।' চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়ন রায়পুরের দক্ষিণ সরেঙ্গা গ্রামের ৬০ বছরের বৃদ্ধ আলী আহমদ এসব কথা বলেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দুই ইউনিয়নের আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ সেতু না থাকায় বাঁশের সাঁকোয় পারাপার হাচ্ছে। সাঁকোটি নড়বড়ে অবস্থা হওয়ায় তিন-চারজনের বেশি লোকজন পারাপার হতে পারে না।
পাঁচ দশক ধরে স্বপ্নের সেতুর অপেক্ষায় হাজারো মানুষ
জনপদের অগ্রযাত্রা একটি সেতুর অভাবে থেমে আছে এই
সেতু না থাকায় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, মৎস্যজীবী, কৃষিজীবী এমনকি রোগী পরিবহনে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সবাইকে। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও প্রসূতি রোগীদের নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া হয়ে পড়ে এক ভয়াবহ যাত্রা। উন্নয়নের ছোঁয়া যখন দেশের সর্বত্র তখনও একটি সেতুর অভাবে থেমে আছে এই জনপদের অগ্রযাত্রা। দক্ষিণ খুরুস্কুল গ্রামের কৃষক শাহ আলম বলেন, 'খালের এপার-ওপারে অনেক চাষাবাদ জমি রয়েছে। কিন্তু সেতু না থাকায় কৃষকদের কষ্ট করে ফসল ঘরে তুলতে হয়। ভোট আসলে প্রার্থীরা সেতু করার আশ্বাস দেন, দুঃখ বুঝে আফসোস করেন। শুধু আশ্বাসই পাই, সেতু পাই না।'
স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'প্রতিবছর এলাকাবাসীর উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো বানিয়ে চলাচল
করা হয়। সাঁকোটি সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্টরা একাধিক বার পরিমাপ করে গেলেও চার যুগেও সেতু হয়নি।' স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহেদুল আলম চৌধুরী বলেন, 'সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ হলেই সেতু নির্মাণ করা হবে।' চট্টগ্রাম-১৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী বলেন, 'নড়বড়ে সাঁকোটিতে মানুষ কষ্ট করে চলাচল করছে। ওই জায়গায় সেতু নির্মাণ আরও আগে করা উচিত ছিল। আমরা ক্ষমতায় এলে সর্বপ্রথম কাজ হবে এই খালের ওপর সেতু নির্মাণ করা।'
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, 'বিএনপি বৈষম্যহীন গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। সাপমারা খালের ওপর আন্নর আলী সিকদার হাটের ব্রিজটি বিএনপি সরকার আমলে করা হয়েছে। আমি এমপি হই বা না হই-এই ব্রিজটিও দ্রুত সময়ের মধ্যে করার জন্য আমার আপ্রাণ চেষ্ট থাকবে।'
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, 'স্থানীয়দের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় সেতু নির্মাণ জরুরি। সাপমারা খালের ওপর সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।