
শফিকুল ইসলাম
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে দলীয় নেতাকর্মীদের
নিয়ে জামালপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে ‘জামালপুর স্পেশাল ট্রেন’। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) ভোর ৫টায় ট্রেনটি জামালপুর টাউন রেলওয়ে জংশন স্টেশন ছেড়ে যায়।
জামালপুর জেলা ও উপজেলা বিএনপি ছাড়াও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের এক হাজারের বেশী নেতাকর্মী এই ট্রেনে ঢাকায় যাচ্ছেন। ১৭ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করায় বেশ উচ্ছসিত ও উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মঞ্জুরুল আহসান সুমনের আবেদনের প্রেক্ষিতে জামালপুর স্পেশাল ট্রেন নামে একটি ট্রেন বরাদ্দ দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। ট্রেনটি বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় জামালপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। যাত্রাপথে ট্রেনটি ময়মনসিংহ, গফরগাঁও, জয়দেবপুর ও বিমানবন্দন স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে নেতাকর্মীদের বহন করে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ট্রেনটি ঢাকায় পৌছবে। একই দিন ঢাকা থেকে সন্ধ্যা ৭টায় জামালপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে এবং দিবাগত রাত ১টা ৪৫ মিনিটে জামালপুর এসে পৌছাবে স্পেশাল ট্রেন। ট্রেনটিতে ১০টি কোচে মোট ৫৩০টি আসন রয়েছে। ট্রেনটির ভাড়া নির্ধারন করা হয়েছে দুই লক্ষ ১৬ হাজার পাঁচশ তেষট্টি টাকা। দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত অর্থায়নে ট্রেনের সমুদয় ভাড়া পরিশোধ করা হয়েছে। জামালপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, পৌর বাস টার্মিনাল ছাড়াও সকল উপজেলা থেকে যাত্রীবাহী বাসে করে নেতাকর্মীরা ঢাকায় যাচ্ছেন। গত কয়েকদিন ধরেই ঢাকায় যাওয়ার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন দলীয় নেতাকর্মীরা। রেলস্টেশন, বাস টার্মিনালগুলোতে সাধারণ যাত্রী ছাড়াও দলীয় নেতাকর্মীদের ভীড় ছিলো চোখে পড়ার মত।
জেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন শাহীন বলেন, জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে একটি ট্রেনটি ভাড়া করা হয়েছে। জামালপুর থেকে এক হাজারের বেশী নেতাকর্মী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে ঢাকায় যাচ্ছি।
জামালপুর শহর বিএনপির সদস্য তানজিরুল আলম বাবন জানান, আমাদের প্রিয় নেতা ১৭ বছর পর আজ বাংলাদেশে আসছেন। এই আনন্দে ঢাকায় যাচ্ছি, আমরা যে কতটা খুশি তা ভাষায় প্রকাশ করার মত না। তিনি আমাদের দেশটাকে নতুনভাবে সাজাবেন এই প্রত্যাশা করছি।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মঞ্জুরুল আহসান সুমন জানান, দলের নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত অর্থে ট্রেনের ভাড়া পরিশোধ করা হয়েছে। আমরা গত ১৭ বছর অনেক কষ্ট করেছি, অনেক নির্যাতন সহ্য করেছি। আজ শীতের কষ্টকে উপেক্ষা করে খুবই উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে নেতাকর্মীরা ঢাকায় যাচ্ছে শুধু তারেক রহমানকে এক নজর দেখার জন্য, তার কথা শোনার জন্য। আগামী দিনে তারেক রহমান একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
একটি স্পেশাল ট্রেন ছাড়াও জেলার ৭টি উপজেলা থেকে প্রায় ২শ বাস, মাইক্রোবাস, ব্যাক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনে প্রায় ৫০ হাজার দলীয় নেতাকর্মী ঢাকায় যাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।