
খাইরুল ইসলাম
ঘন কুয়াশার সঙ্গে জেঁকে বসেছে শীত। উত্তর থেকে ধেয়ে আসা কনকনে ঠান্ডা বাতাসে তীব্র শীত অনুভুত হচ্ছে চুয়াডাঙ্গায়। হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশা, জনজীবনে এখন শীতের দাপট স্পষ্ট। দিন ও রাতে তাপমাত্রা প্রায় সমান হওয়ায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে চুয়াডাঙ্গায়। সোমবার দেশের সর্ব নিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রচন্ড শীতের প্রভাবে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। এছাড়া শিশুদের বাড়ছে ঠান্ডাজণিত রোগ। চিকিৎসকরা বলছে ঠান্ডা থেকে শিশুদেরকে সতর্ক রাখতে হবে।
সোমবার সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ছয়টায় তামমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, উত্তরের হিমেল বাতাস, ঘন কুয়াশা ও তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়ায় ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। দিনের ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় সমান হওয়ার কারণে বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। এ মৌসুমে দুদিনে শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সোমবার সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে, জেলার হাসপাতালগুলোতো বাড়তে শুরু করেছে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। শিশুরা বেশি ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। রোটা ভাইরাসের কারণে ডায়রিয়া আক্রান্ত হচ্ছে বেশিরভাগ শিশু। শয্যার তুলনায় হাসপাতালগুলোতে বেশি রোগী ভর্তি থাকায় বারান্দা ও মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে শীতের মধ্যে কষ্ট করে। আর অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সসহ দায়িত্বরতদের।
ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। ঠাণ্ডার প্রভাবে রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতিও তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে। প্রচন্ড শীত অনুভূত হওয়ায় সব চেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ গুলো।
চুয়াডাঙ্গার পৌরসভাধীন সাতগাড়ি গ্রামের রতন আলী বলেন, শীত যতই বাড়ুক আমাদের রাস্তায় বেরুতেই হবে। রাস্তায় না বেরুলে পেটে ভাত জুটবে না।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়ায় হঠাৎ করে শীত অনুভূত হচ্ছে। তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাস বইছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু কনসালটেন্ট ডা. মাহবুবুর রহমান মিলন জানান, দুদিন চুয়াডাঙ্গায় অতিরিক্ত ঠান্ডা পড়ছে। এই ঠান্ডায় রোটা ভাইরাসের কারণে শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। বাচ্চাদের গরম কাপড় পরিধান করাতে হবে। পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও আন্তঃবিভাগের রোগীর চাপ অনেক বেশি।