
শাহ আনিস আরাফাত
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র ডাক্তার সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক রোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, অনুমোদিত চিকিৎসক পদের বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। অনেক ক্ষেত্রে একজন চিকিৎসককেই একাধিক বিভাগে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে নিয়মিত বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ ও ওয়ার্ডে সেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় রোগীদের অভিযোগ, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেক সময় ডাক্তার দেখানো সম্ভব হয় না। জরুরি রোগী নিয়ে হাসপাতালে এসে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে বাধ্য হয়ে জেলা সদর বা বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচের পাশাপাশি সময় ও ঝুঁকিও বাড়ছে।
হাতীবান্ধা উপজেলার বাসিন্দা এক রোগীর স্বজন বলেন,
“হাসপাতালে আসি ভরসা নিয়ে, কিন্তু ডাক্তার না থাকায় শেষ পর্যন্ত বাইরে যেতে হয়। গরিব মানুষের জন্য এটা অনেক কষ্টের।”
উপজেলার প্রত্যন্ত ইউনিয়নগুলোতে অবস্থিত কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর অবস্থাও একই রকম। অনেক ক্লিনিকে নিয়মিত চিকিৎসক না থাকায় সেবার মান দিন দিন কমে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান, ডাক্তার সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। নতুন করে চিকিৎসক নিয়োগ ও পদায়নের আশ্বাস পাওয়া গেলেও এখনো কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত হাতীবান্ধা উপজেলায় পর্যাপ্ত সংখ্যক দক্ষ চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হোক। পাশাপাশি আবাসন ও নিরাপত্তা সুবিধা নিশ্চিত করলে চিকিৎসকরা দীর্ঘমেয়াদে এখানে দায়িত্ব পালনে আগ্রহী হবেন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
ডাক্তার সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবার অবস্থা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।