প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 1, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Dec 13, 2025 ইং
গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ড. এম. এ. হাসেম চৌধুরীর ঘোষণা

উওম দাস
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) আসন থেকে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রফেসর ড. এম. এ. হাসেম চৌধুরী। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) গাজীপুর মহানগরের জয়দেবপুরে ইকবাল কুঠিরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরদের এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগ ও রক্তঋণ আমাদের গণতান্ত্রিক পথচলায় চিরন্তন প্রেরণা হয়ে থাকবে।
নিজের পরিচয় তুলে ধরে ড. এম. এ. হাসেম চৌধুরী বলেন, তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি ও জিএস এবং ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রিধারী। দীর্ঘ ৩৫ বছর তিনি হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। এছাড়া তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি, ফিনল্যান্ড বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং কাপাসিয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল ছিলেন।
তিনি বলেন, “বিদেশের সুযোগ-সুবিধা ছেড়ে আমি আবার ফিরে এসেছি আমার জন্মভূমি কাপাসিয়ায়। কারণ কাপাসিয়া আজ সংকটে।” তিনি অভিযোগ করেন, গত দেড় বছরে এলাকায় হত্যা, নারী নির্যাতন, ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজি ও পরিবেশ ধ্বংস বেড়েছে, যা কাপাসিয়ার মানুষের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, দলীয় স্বার্থ নয়, জনগণের স্বার্থই তাঁর কাছে সর্বোচ্চ। তিনি বিএনপি ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের অনুসারী হলেও কাপাসিয়ার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে স্বাধীন ও সুশাসনভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আগামী পাঁচ বছরের (২০২৬–২০৩০) রূপকল্প তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল লার্নিং সেন্টার স্থাপন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্মার্ট আইসিটি ল্যাব, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট সুপার হাসপাতালে উন্নীতকরণ, স্মার্ট কৃষি কার্ড চালু, পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যুবকদের জন্য স্কিল ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, নারীর ক্ষমতায়ন, ধাঁধার চড়ে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ, হান্নান শাহ স্মৃতি জাদুঘর ও তাজউদ্দীন আহমদের ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণ।
ড. এম. এ. হাসেম চৌধুরী বলেন, “চরিত্র, শিক্ষা ও সততার সমন্বয়ই আমার নেতৃত্বের মূল ভিত্তি। টাকা ও পেশীশক্তির রাজনীতির কাছে আমি কখনো নত হব না।”
সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, সুধীজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
স্বত্ব © দৈনিক জনতার খবর ২০২৫ | ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।