
মোঃ মশিউর রহমান
গত ০৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে
কাহারোল থানার কোটগাঁও গ্রামস্থ মালিহাটা–রাঙ্গাচাটা কাঁচা রাস্তার উত্তর পাশে একটি আমবাগান সংলগ্ন ধানক্ষেত থেকে
কামাল হোসেন ওরফে পায়েল (৪৫) নামের এক তৃতীয় লিঙ্গ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে কাহারোল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের পিতা: মৃত নূরু মিয়া
ঠিকানা: ডহচি, থানা-কাহারোল, জেলা-দিনাজপুর।
মামলা রুজু
নিহতের ভাই বাবুল মিয়া অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কাহারোল থানায় এজাহার দায়ের করেন।
মামলা নং: ০২
তারিখ: ১০/১১/২০২৫ খ্রি.
তদন্ত কার্যক্রম
মামলার প্রেক্ষিতে:
দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি),
সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল,
কাহারোল থানা পুলিশ
যৌথভাবে গোপন তদন্ত শুরু করে।
১০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে
দিনাজপুর জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ জেদান আল মুসা, পিপিএম মহোদয়ের নির্দেশনায় এবং
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) জনাব মোঃ আনোয়ার হোসেন মহোদয়ের তত্ত্বাবধানে
অভিযান পরিচালিত হয়।
আসামি গ্রেফতার
দিনাজপুর সদর থানাধীন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়:
শ্রাবণ রায় (নবমুসলিম ইউসুফ)
পিতা: বিরেন্দ্র রায়
ঠিকানা: ঈশানিয়া, থানা-বোচাগঞ্জ, জেলা-দিনাজপুর।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।
ঘটনার পেছনের কারণ
নিহত কামাল হোসেন ওরফে পায়েল দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে দাদন ব্যবসা করতেন।
সবসময় কাঁধে একটি ব্যাগ রাখতেন, যাতে প্রায় ২০–৩০ হাজার টাকা থাকত।
তিনি মোটরসাইকেল চালাতে না পারায় অন্যদের মাধ্যমে যাতায়াত করতেন।
তার কয়েকজন পরিচিত বন্ধু অনলাইন জুয়া খেলায় আসক্ত ছিল।
টাকার প্রয়োজনে তারা পরিকল্পনা করে নিহতের টাকা আত্মসাতের সিদ্ধান্ত নেয়।
হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন
০৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে নিহতকে ডেকে আনা হয়।
মোট তিনটি মোটরসাইকেলে ছয়জন মিলে তাকে নিয়ে বের হয়।
নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে:
ব্যাগের বেল্ট দিয়ে গলা চেপে ধরা হয়,
হাত-পা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
পথচারী দেখা দিলে তাকে আমবাগানের ভেতরে নিয়ে গিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
লুটপাট ও পরবর্তী ঘটনা
হত্যার পর তারা নিয়ে যায়:
ব্যাগসহ ২০ হাজার টাকা,
মোটরসাইকেল,
মোবাইল ফোন,
ঘরের চাবি।
নিহতের বাড়িতে গিয়ে টাকা নিতে ব্যর্থ হয়ে মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়।
লুট করা টাকা দিয়ে বন্ধক রাখা জিনিস উদ্ধার করে।
নিহতের মোবাইল থেকে টাকা তুলতে ব্যর্থ হয়ে
দিনাজপুর সদর থানাধীন ঘাগড়া (ক্যানেল) খালে মোবাইল ফেলে দেয়।