প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Dec 11, 2025 ইং
বাবাকে হারানোর এক মাস মাকে হারিয়ে অসহায় হামিম

মো.মেহেদী হাসান
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের জয়রামপুর গ্রামের মাত্র ১মাস আগে হামিম(৮) ছিলো মা-বাবার আদরের ছায়াতলে। কিন্তু আজ হামিম বড্ড একা। বাবাকে হারানোর পর এক মাস পর মাকে হারাতে হবে সেটা ওরা জানতো না। এখন ওর অসহায় চাহনি দেখে যে কারো চোখে পানি আসতে বাধ্য।
'আমি এখন যাবো কোথায়, থাকবো কোথায়, খাবো কোথায় গো..' এমনি আকুতি আর আহাজারিতে ভাসছে ভাঙ্গুড়া উপজেলার খান মরিচ ইউনিয়নের জয়রামপুর গ্রাম।
গত (১০নভেম্বর ) মহান রবের ডাকে সাড়া দিয়ে বাবা চলে যায় ঠিক এক মাস পর ১০ডিসেম্বর মাকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়ে হামিম (৮)।
এখন ওর ভরণ-পোষণের জন্য একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন ওদের বাবা দিনমজুর আনসার আলী।
সারাদিন কাজ করে যে টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতেন। সেই টাকায় সদাই করে ১ছেলে আর স্ত্রীকে নিয়ে পরিবার চলতো। কিন্তু সন্তানকে এতিম করে স্ত্রী আলিমা আক্তারসহ তিনি এখন কবরে।
সদ্য এতিম হওয়া হামিম অধিক শোকে পাথরের প্রভাবটা হয়তো তার ওপর একটু হলেও পড়েছে। ফলে কিছুটা স্বাভাবিকভাবে সে আমার সংবাদের সঙ্গে কথা বললেও পরবর্তীতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
হামিম এখনো বিষয়টি হয়তো ভালো করে বুঝেনি। তবুও ওদের চাহনিতে বেদনার চাপ। ও একদিন আগেও নাকি খুব চঞ্চল ছিলো, খেলাধুলা করছিলো। কিন্তু আজ নিশ্চুপ।
একে একে গ্রামের প্রতিবেশীরা এসে হামিমকে সান্তনার বাণী শুনিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে সেরাজুল ইসলাম বিপুল নামে গ্রামের এক ব্যবসায়ী বললেন, ভরণ-পোষণের দায়িত্ব কেউ একজন নিতে হবে । গ্রামের সবাই এসে বললেন, আমরা তোমাদেরই ভাই, চাচা, মামা। ওদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন সবাই।
কিন্তু সাময়িক সহযোগিতা নিয়ে ওদের জীবন চলবে কিভাবে? জানতে চাওয়া হয় ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পাল কাছে।
সেই সঙ্গে বিত্তশালীদেরকে অসহায় ওই এতিমদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ইউএনও তাপস পাল।
স্বত্ব © দৈনিক জনতার খবর ২০২৫ | ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।