
মোঃ সাইদুর রহমান
মানিকগঞ্জে তিন বছর আগে চুরি হওয়া একটি মাইক্রোবাস অবশেষে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘ তদন্ত, প্রযুক্তির দক্ষ ব্যবহার এবং ধারাবাহিক তৎপরতার ফলে চোরাই যানটির অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয় সংস্থাটি।
পিবিআই জানায়, অ্যাডিশনাল আইজিপি ও সংস্থার প্রধান মো. মোস্তফা কামালের নির্দেশনায় এবং পিবিআই মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল প্রায় ১১ মাস ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে। তাদের সেই অধ্যবসায়ের ফলেই মাইক্রোবাসটি উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।
জানা যায়, হরিরামপুর উপজেলার রাজুরা গ্রামের বাসিন্দা মেহেদী হাসান মিঠু সৌদি আরবে ১৪ বছর প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে কষ্টার্জিত সঞ্চয়ে মাইক্রোবাসটি (ঢাকা মেট্রো-চ ১৫-৬২৪৪) ক্রয় করেন। পরে তিনি গাড়িটি মাসিক ৩০ হাজার টাকা বেতনে স্থানীয় এক চালকের কাছে চালানোর দায়িত্ব দেন। কিন্তু সেই চালক মালিকের বিশ্বাসের অপব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে গাড়িটি বিক্রি করে পালিয়ে যান।
ঘটনার পর মিঠু আদালতের শরণাপন্ন হন। তদন্তে বেরিয়ে আসে, চালক মালিক সেজে প্রথমে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক ব্যক্তির কাছে গাড়িটি বিক্রি করেন। এরপর এক বছরে গাড়িটি সাতবার মালিকানা বদলে ঘুরে বেড়ায় চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ ও পাবনার বিভিন্ন এলাকায়। মালিকানা বদলের সংখ্যা বাড়তে থাকায় গাড়িটির গতিপথ অনুসরণ ক্রমেই কঠিন হয়ে ওঠে।
তবে তদন্ত থামায়নি পিবিআই। ইন্সপেক্টর সুখেন্দু বসুর তত্ত্বাবধানে একটি দক্ষ দল তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে ধাপে ধাপে গাড়ির অবস্থান অনুসরণ করতে থাকে। অবশেষে ৭ ডিসেম্বর পাবনা জেলার সাঁথিয়া থানার ইছামতি নদীর পাড়ে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় তারা।
পিবিআই মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী বলেন, “গাড়ি চুরি ও প্রতারণার সঙ্গে কারা জড়িত—তা নির্ণয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনো চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মালিক মেহেদী হাসান মিঠুর কাছে যানটি হস্তান্তর করা হবে।”
এই ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো—সুনির্দিষ্ট তদন্ত, প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব থাকলে বহু জটিল মামলারও সফল সমাধান সম্ভব। পিবিআইয়ের এই দৃঢ়তা নিঃসন্দেহে জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।