
মোঃ মশিউর রহমান
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বারান্দায় চিরকুটসহ ফেলে যাওয়া সেই আলোচিত নবজাতক অবশেষে পেল নতুন ঠিকানা। অরবিন্দ শিশু হাসপাতালে দীর্ঘ এক মাসের চিকিৎসা ও পরিচর্যার পর উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী
শিশুটিকে নওগাঁর শান্তাহার এনায়েতপুর এলাকার এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রোববার দুপুরে দিনাজপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে অরবিন্দ শিশু
হাসপাতাল ও কার্যনির্বাহী পরিষদ এই হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন করে। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-র প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বোরহান উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও শিশু কল্যাণ বোর্ডের সদস্য–সচিব গোলাম আজম, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল ইসলামসহ অরবিন্দ শিশু হাসপাতালের নেতৃবৃন্দ।
অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান,
“গত ৬ নভেম্বর এক অজ্ঞাত নারী বাজারের ব্যাগে করে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় নবজাতকটিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। শিশুটির মাকে ডাকতে যাওয়ার কথা বলে ওই নারী সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে ব্যাগের ভেতর একটি চিরকুট পাই, যেখানে লেখা ছিল— ‘শিশুটি মুসলিম, বিশেষ কারণে রেখে গেলাম। তাকে মানুষ করার
জন্য যেন ভালো কারও কাছে তুলে দেন।’”
পরবর্তীতে উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের নির্দেশে শিশুটিকে অরবিন্দ শিশু হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সযত্ন চিকিৎসা ও পরিচর্যায় নবজাতকটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. বোরহান উদ্দিন বলেন,
“মানবিক দায়িত্ব থেকে অরবিন্দ শিশু হাসপাতাল যে সেবা দিয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা চাই, এই শিশুটি একদিন আলোকিত মানুষ হয়ে সমাজে অবদান রাখুক।”
শিশু কল্যাণ বোর্ডের সদস্য–সচিব গোলাম আজম জানান,
“১১ নভেম্বর বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হয় উপযুক্ত পরিবার খুঁজতে আবেদন আহ্বান করা হবে। মোট ১৫টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই ও সামাজিক তদন্ত শেষে নওগাঁর এক
উপযুক্ত নিঃসন্তান দম্পতির কাছে নবজাতকটিকে দত্তক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”
হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অরবিন্দ শিশু হাসপাতালের সভাপতি আব্দুস সামাদ, সহসভাপতি মো. রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম কবিরসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মানবিক এই উদ্যোগে দিনাজপুরের মানুষ স্বস্তি ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। চিরকুটে লেখা অগোচর মায়ের আকুতি শেষে নবজাতকটি পেল নতুন পরিবার—পেল নতুন ভবিষ্যৎ।