
মহিউদ্দিন জুয়েল
মুক্তিযোদ্ধাদের দৃঢ় মনোবল ও সাহসিকতার কাছে পরাস্থ হয়ে পাক-হানাদার বাহিনী পিছু হঠে ঝাওয়া ব্রিজ ও গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় চলে গেলে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে ছাতক শহরকে হানাদার মুক্ত ঘোষণা করেন মুক্তিযোদ্ধারা। ছাতকের সিমেন্ট কারখানা ও নোয়ারাই এলাকা ছিল পাকসেনাদের দখলে। ১৯৭১ সালে নভেম্বরের প্রথমদিকে নোয়ারাই এলাকায় পাকবাহিনীর সাথে তুমুল যুদ্ধ হয় মুক্তিযোদ্ধাসহ যৌথবাহিনীর।
যৌথবাহিনীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে পিছুহঠে পাকসেনারা। এসময় মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে চলে আসে নোয়ারাই এলাকা। তবে বেশী সময় নোয়ারাই এলাকায় অবস্থান করতে পারেনি মুক্তিযোদ্ধারা। রণ কৌশলগত কারণে তখন মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হঠে। এ সময় পাকবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের তুমুল যুদ্ধে নোয়ারাই গ্রামের অন্তত ৩০ জন মানুষ হতাহত হন। মুক্তিযুদ্ধের ৫নং (বাঁশতলা) সেক্টর হেডকোয়ার্টারের নেতৃত্বে পরিচালিত যুদ্ধে ডিসেম্বর মাসের প্রথম থেকেই বিজয়ের সুবাতাস বইতে শুরু হয়। ৫ ডিসেম্বর ছাতকের সুরমা নদীর উত্তর পার জয়নগর এলাকায় মুক্তিযোদ্ধারা শক্ত অবস্থান নেয়। এসময় পাক-হানাদার বাহিনীর অবস্থান ছিল নোয়ারাই ও ছাতক সিমেন্ট কারখানা এলাকায়। বিনা প্রতিরোধে ৬ ডিসেম্বর রাত এগারোটার দিকে ছাতক শহর ছেড়ে ঝাওয়া ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নেয় হানাদার বাহিনী। ছাতক-সিলেট সড়কের ঝাওয়া ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় পাক-বাহিনী। পরে ঝাওয়া ব্রিজ থেকে গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় অন্যান্য পিছু হঠা হানাদার বাহিনীর সাথে যোগ দেয় তারা। ওই দিন বিকেলে মুক্তিবাহিনীর সমর্থনে ভারতীয় মিত্রবাহিনী ছাতক সিমেন্ট কারখানার সুরমা নদীর পারে অবস্থান নেয়। হানাদারমুক্ত হয় ছাতক। প্রতি বছর ৬ ডিসেম্বর ছাতক মুক্ত দিবস আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করে আসছে ছাতক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।