গাজী মাহমুদ পারভেজ
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হলো ৩৪তম আন্তর্জাতিক এবং ২৭তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস। “প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ি, সামাজিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করি”—এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আমডা বাংলাদেশ ও ডাউন সিনড্রোম সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ডিএসএসবি) যৌথভাবে দিবসটি পালন করে।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল বর্ণাঢ্য র্যালি, ডাউন সিনড্রোম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং আলোচনা সভা। এতে আমডা বাংলাদেশ ও ডিএসএসবি’র সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বেচ্ছাসেবক, অভিভাবকসহ বিভিন্ন বয়সের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, “প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা কোনোভাবেই সমাজের বোঝা নয়; বরং সঠিক যত্ন, সুযোগ ও উপযুক্ত পরিবেশ পেলে তারাও শিক্ষা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।” মানবিক রাষ্ট্র গঠনে এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করতে সমাজের প্রতিটি মানুষের ইতিবাচক মনোভাব ও সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।
১৯৯২ সালে জাতিসংঘ ৩ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। সেই থেকে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী এই দিনটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, সমঅবস্থান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশেও দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়, যার অংশ হিসেবে গজারিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় এই অনুষ্ঠান।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সম্ভাবনা, প্রতিভা ও মানবিক মূল্যবোধকে সামনে আনতে আমডা বাংলাদেশ ও ডাউন সিনড্রোম সোসাইটি অব বাংলাদেশের এই আয়োজন এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, “একজন প্রতিবন্ধীও পিছিয়ে থাকবে না”—এই লক্ষ্য নিয়ে তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করবেন।
মানবিকতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক দায়িত্ববোধের বার্তা ছড়িয়ে দিতে হোসেন্দীতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান গজারিয়ায় নতুন এক ইতিবাচক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।