আরিফ রববানী ময়মনসিংহ।।
ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মশারি বিতরণ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে এসব মশারী বিতরণ করা হচ্ছে। ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসাবে বধবার (৩ডিসেম্বর) দুপুর ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে ১৯ নং ওয়ার্ডের বলাশপুর আবাসন ,মুক্তিযোদ্ধাপল্লী,পাটগুদাম দুলদুল ক্যাম্প,পালপাড়া কলোনিতে নিম্ন আয়ের পরিবারের মাঝে মশারি বিতরণ করেছেন সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল -৩) ফৌজিয়া নাজনীন। এসময় সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ এইচ কে দেবনাথ ,সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা উম্মে হালিমাসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল -৩) ফৌজিয়া নাজনীন বলেন-ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। নিম্ন আয়ের মানুষেরা যেন নিরাপদে থাকতে পারে, সেজন্য আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। প্রতি ঘরে মশারি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, পাশাপাশি আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি।”
এসময় সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ এইচ কে দেবনাথ বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতাই গুরুত্বপুর্ণ। তিনি বলেন- ডেঙ্গুর জীবাণুবাহক এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার এবং জমে থাকা পানিতে ডিম পাড়ে। এ মশার ডিম দুই বছর পর্যন্ত জীবিত থাকে। তাই আমাদের বাসস্থানের আশপাশে থাকা যেকোনো পানির পাত্র, ফুলের টব, ব্যবহারহীন ড্রাম, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা কিংবা প্লাস্টিক প্যাকেট- এসবই এডিস মশার প্রজননের আদর্শ জায়গা। এসব বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতিটি ওয়ার্ডে পাড়া মহল্লায় সচেতনতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এভাবে নিয়মিত তদারকি করতে পারলে আশা করছি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সফল হবো।এই ধরনের কার্যক্রম শহরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে, যাতে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলো সিটি কর্পোরেশনের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, মশারি পাওয়া তাদের জন্য খুবই সহায়ক হবে এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখবে।
মশারি বিতরণের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন বলেও মন্তব্য চলছে স্থানীয়দের মাঝে।