
সোমবার সন্ধ্যায় বোয়ালী ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়হক সমীর কুমার গুহ ও স্হানীয় বিএনপি সনাতনী নেতা নেতীদের আয়োজনে বোয়ালী কেন্দ্রীয় মন্দিরে গীতা পাঠ ও প্রার্থনা করা হয়। গীতা পাঠ করেন পন্ডিত দীনেশ চক্রবর্তী।
গীতা পাঠ শেষে সমীর কুমার গুহ বলেন, "দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, বিএনপির পরিতিষ্ঠাতা কোষাধ্যক্ষ চৌধুরী তানবীর আহমেদ সিদ্দিকীর সুস্থতা ও ব্যারিস্টার চৌধুরী ইসরাক আহমেদ সিদ্দিকীর মঙ্গল কামনায় আমরা গীতা পাঠের আয়োজন করেছি। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে মানবিক মূল্যবোধ থেকেই এই প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
ব্রজেন সরকার জানান, হিন্দু - মুসলমান হিসেবে আলাদা ধর্ম হতে পারে। মানবতায় কোন বিভেদ নেই। তাই বোয়ালী সহ আশে পাশের গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তির কামনায় গীতা পাঠের আয়োজন করেছে।
নারায়ন সরকার জানান, গীতা পাঠ ও প্রার্থনা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, গীতা পাঠ আত্মশুদ্ধির পথ। তাই আমরা আজ খালেদা জিয়ার সুস্হতা কামনায় একসাথে প্রার্থনা করেছি।
গীতা পাঠ ও প্রার্থনা অনুষ্ঠানে নারীরা প্রদীপ জ্বেলে প্রার্থনায় অংশ গ্রহণ করেন। বোয়ালী কেন্দ্রীয় মন্দিরে ফুল, ধূপ,প্রসাদ, শঙ্খধ্বনি ও গীতার মন্ত্রোচ্চারনে মুখরিত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠান শেষে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরন করা হয়। বোয়ালী গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্যেগে গীতা পাঠ কোন রাজনৈতিক প্রার্থনা নয়। বেগম খালেদা জিয়ার সুস্হতা কামনায় এক সাথে সমসুরে প্রার্থনা করা হয়।
বোয়ালী গ্রামের মানুষ বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তিতে গীতা পাঠ ও প্রার্থনা করে অনন্য বার্তা দিয়েছে। ধর্ম ও মতবিরোধের উর্ধ্বে মানুষের কল্যান কামনা করা। গীতা পাঠ, প্রার্থনা করার আয়োজন শুধু ধর্মীয় রীতি নয়, এটি মানবতার একটি বিশুদ্ধ মনের প্রকাশ। খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির প্রার্থনা বোয়ালী গ্রামের সনাতন ধর্মের মানুষের উদ্যেগ বাংলাদেশের সামাজিক সংস্কৃতির কথা মনে করে দেয়। রাজনৈতিক বিভাজনের উর্ধ্বে মানবিক বিবেচনায় সবাই খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্হতা কামনা করেন।