
সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রেস সচিব মো. ছফওয়ানুল করিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সফরসূচি নিশ্চিত করা হয়েছে। সফরে তিনি পেকুয়া ও চকরিয়া বিভিন্ন ইউনিয়নে ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক গণসংযোগ, পথসভা ও দলীয় কার্যক্রমে অংশ নেবেন। তার এ সফরকে ঘিরে নির্বাচনী এলাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে।
সফরসূচি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দিন (২ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখান জেলা বিএনপি সভাপতির নেতৃত্বে অঙ্গ সংগঠনের নেতারা তাকে স্বাগত জানান নেতা কর্মিরা শ্লোগানে শ্লোগানে তাকে বরণ করেন নেন। সেখান তিনি থেকে কক্সবাজার–১ (চকরিয়া–পেকুয়া) সড়কপথে চকরিয়ার খুটাখালীর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তার এ সফরকে কেন্দ্র করে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ, যা স্থানীয় বিএনপি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
সফরের শুরুতে খুটাখালীর পীর সাহেব হাফেজ আব্দুল হাই হুজুরের কবর জিয়ারত এবং খুটাখালী ইউনিয়ন বিএনপির অফিস উদ্বোধন করেন। এরপর খুটাখালী, দুলাহাজারা ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য রাখবেন।
দীর্ঘদিন কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মামলাজট ও দেশের বাইরে অবস্থানসহ নানা কারণে সালাহউদ্দিন দীর্ঘ সময় ধরে এলাকায় সরাসরি গণসংযোগে অংশ নিতে পারেননি। মনোনয়ন পাওয়ার পর এটিই তার প্রথম বৃহৎ পরিসরের প্রত্যাবর্তন, ফলে এই সফরকে ঘিরে চকরিয়া–পেকুয়ার রাজনৈতিক অঙ্গন কার্যত উষ্ণ হয়ে উঠেছে।
সেদিন সন্ধ্যা ৬ টায় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের রশিদ আহমদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে একটি বৃহৎ পথসভায় বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে তার। স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, এই পথসভাকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরেই এলাকায় চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি—ব্যানার, ফেস্টুন, স্বাগত তোরণ ও মাইকিংয়ে পুরো ইউনিয়ন উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে।
পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. বাহাদুর শাহ বলেন, “২ থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, গ্রাম ও অলিতে-গলিতে মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করবেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তৃণমূলকে পুনর্গঠনের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সফর।”
বহু বছর পর কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাকে কাছে পাওয়ায় চকরিয়া–পেকুয়ার বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোছাইন বলেন, “প্রায় ১৪ বছর পর নিজের গ্রামে ফিরে মানুষের সঙ্গে সরাসরি গণসংযোগ করবেন তিনি। এটি একটি আবেগের মুহূর্ত। প্রতিটি ওয়ার্ডে তাকে স্বাগত জানাতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি।”
উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কয়েক দফা বৈঠক করে গণসংযোগের রুট, সভাস্থল, নিরাপত্তা ও জনসমাগমসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, সালাহউদ্দিন আহমদ অতীতে এলাকায় সড়ক–যোগাযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির পর তিনি মাঠে ফিরছেন—এটি স্থানীয়দের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
পেকুয়ার স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “তিনি এলাকায় উন্নয়নের কাজ করেছেন। এবার দীর্ঘদিন পর ফিরে সরাসরি মানুষের কথা শুনবেন—আমরা আশা করছি তিনি আবার সক্রিয় হবেন।”
তরুণ ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ আরও বেশি। অনেকেই মনে করেন, তার সফর এলাকায় বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে নতুন গতি দেবে।
কক্সবাজার–১ আসন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে অন্যতম আলোচিত এলাকা। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এখানে পরপর পরাজিত হয়েছে । তবে এবার সালাহউদ্দিনের ফেরাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ভোটব্যাংক পুনরুজ্জীবিত হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
স্থানীয় সূত্র বলছে, পেকুয়ার উপকূলীয় এলাকায় লবণচাষীদের বিভিন্ন সমস্যা, নদীভাঙন, সড়ক–যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও মৎস্য–সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এসব ইস্যুতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও প্রত্যাশা রয়েছে। সফরকালে এ বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা হবে। প্রচারন শেষে তিনি পেকুয়া নিজ বাসায় অবস্থান করবেন।