
সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল-নলকা মহাসড়কে রাতের আঁধারে একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনকারী চালকরা। সম্প্রতি এই মহাসড়কে একটি ট্রাক ছিনতাইয়ের ঘটনায় ডাকাতির মালামাল উদ্ধার হয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা 'ভাটা রফিক'-এর ভাই এরশাদুল ইসলামের রড-সিমেন্টের দোকান থেকে। যদিও পুলিশ তার দোকানের ম্যানেজারকে আটক করেছে, মূল অভিযুক্ত এরশাদুল এখনো পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে।
জানা গেছে, গত ৬ মার্চ ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকা থেকে এসএসআরএম কোম্পানির ১৪ টন রডবোঝাই দুটি ট্রাক শেরপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। পরদিন ভোর রাতে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার শোলমাইল এলাকায় একদল ছিনতাইকারী র্যাব পরিচয়ে একটি ট্রাক থামিয়ে চালক ও হেলপারকে অপহরণ করে এবং ট্রাকটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগীরা রায়গঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।
তদন্তে নেমে পুলিশ সলঙ্গা থানার পাঁচলিয়া বাজারে এরশাদুল ইসলামের দোকানে অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া রডের একটি অংশ উদ্ধার করে এবং দোকানের ম্যানেজার সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করে। একইসঙ্গে চোরাই চক্রের আরও এক সদস্যকে আশরাফুল নামের এক ব্যক্তির 'চোরাই পয়েন্ট' থেকে আটক করা হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এরশাদুল দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কে ডাকাতি হওয়া রড ও সিমেন্টের মালামাল কিনে নিজের দোকানে বিক্রি করে আসছেন। তার বড় ভাই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ভাটা রফিকের রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে এই অপকর্মের নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তোলেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, রাতের আঁধারে চোরাই মালামাল দোকানে তোলা ও খালাসের সময় টহল পুলিশের উপস্থিতি সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
এরশাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, সে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দিয়ে মাদক সেবন ও বিতরণের পাশাপাশি এলাকায় ছিনতাই, চুরি এমনকি ধর্ষণের মতো অপরাধে সাথে জরিতদের সহযোগী বলে যানাযায় । সম্প্রতি পাঁচলিয়া আলোকদিয়া গ্রামে এক সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হলে, এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানায়। বিস্ময়ের বিষয়, পলাতক এরশাদুল নিজেই ওই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে।এতে ঐ এলাকায় আলোচনা সমালোচনার ঝর উঠেছে।
এ নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, “এরশাদুল ও তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দাপটের সঙ্গে এসব অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ মুখ খুললেই হুমকি-ধমকির শিকার হতে হয়।”
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ভাটা রফিক সাংবাদিকদের বলেন, “আমি বিএনপি করি, আমাকে সহজে কেউ ধরতে পারবে না। আমার ভাই এরশাদ ধরা পড়েনি, শুধু ম্যানেজারকে ধরা হয়েছে।”
সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বলেন, “মহাসড়কের ডাকাত ও চোর চক্রের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে রড উদ্ধার ও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত এরশাদুলকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।”