প্রিন্ট এর তারিখঃ Mar 14, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 11, 2025 ইং
ধান ও আমের পর এবার নওগাঁয় মৎস্য উৎপাদনে নিরব বিপ্লব

ধান ও আমে সম্মৃদ্ধির পর এবার মৎস্য উৎপাদনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে নওগাঁ জেলায়। অনেকটা নিরবেই ঘটেছে এই বিপ্লব। জেলা জুড়ে এখন শত শত পুকুর-দীঘিতে চাষ হচ্ছে মাছ। নিবন্ধিত মাত্র ৩২ টি মৎস্য রেনু উৎপাদনকারী হ্যাচারী সরবরাহ করছে তাদের নিজস্ব উৎপাদিত বিভিন্ন প্রজাতির মৎস্য পোনা। উৎপাদিত মৎস্য এখন জেলার গন্ডি ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছেন মৎস্য চাষিরা। তবে অভিযোগ আছে নিবন্ধিত হ্যাচারীর বাইরেও অনিবন্ধিত হ্যাচারী মালিকরা বছরের পর বছর রেনু পোনা উৎপাদন করে বিক্রি করে যাচ্ছে। কিন্তু যথাযত দেখভালের অভাবে মান নিয়ন্ত্রনের বিষয়টি মৎস্য চাষিদের সন্দিহান করে তুলছে।
তবে নওগাঁ জেলা মৎস্য অধিদপ্তর বলছে, এমন সম্ভবনা একবারেই ক্ষীন। তাদের নিয়মিত নজরদারী ও পরামর্শে হ্যাচারী মালিক ও মৎস্য চাষি মান নিয়ন্ত্রন করেই রেনু উৎপাদন ও মৎস্য চাষ করছেন। সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী নওগাঁ জেলায় ২০২৪ সালে বিভিন্ন প্রজাতির রেনু পোনা উৎপাদন হয়েছে ১২.৯০ মেট্রিক টন। যা থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন প্রজাতি, আকৃতি ও ওজনের মৎস্যের সংখ্যা প্রায় ২৬ কোটি।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি রেনু পোনা উৎপাদন হ্যাচারী অত্যন্ত দক্ষতার সাথে স্থানীয় প্রযুক্তিতে রেনু পোনা উৎপাদন করছেন। প্রতিটি হ্যাচারীর সামনে রেনুপোনা কেনার জন্য অপেক্ষা করছেন মৎস্য চাষিরা। প্রতিটি হ্যাচারীতে একজন করে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত দক্ষ ব্যক্তি সার্বিক তত্ত্ববধান করছেন। হ্যাচারীতে তাদের পরিচিতি ‘ডাক্তার’ হিসেবে। যে হ্যাচারীতে যত দক্ষ ‘ডাক্তার’ থাকেন সেই হ্যাচারীর রেনুপোনার চাহিদা ততবেশি।
কথা হয় আব্দুল জব্বার নামে এক মৎস্য চাষির সাথে। তিনি বলেন, সিজন অনুযায়ী বিভিন্ন মাছের চাহিদা বিভিন্ন ধরনের। কাতল, রুই, মৃগেল, পবদা, বাটা ছাড়াও সব ধরনের হাইব্রীড মাছ তিনি চাষ করেন। যখন যে সময় যে মাছের চাহিদা তা সামনে রেখেই মাছ চাষ করা হয়। যেন উপযুক্ত সময়ে মাছ বিক্রির মত সাইজ হয়ে যায়।
আতিকুর রহমান নামে এক মৎস্য চাষি বলেন, আমি কাতল ও রুই মাছ বেশি চাষ করি। মাছ গুলো ৪/৫ কেজি ওজন হওয়ার পর বিক্রি করে থাকি। এতে সময় একটু বেশি লাগে কিন্তু দাম ভাল পাওয়া যায়।
একাধিক হ্যাচারী মালিক জানান, তাঁরা সময় বুঝে রেনুপোনা উৎপাদন করেন। যে সময় যে মাছের চাহিদা বেশি সেই মাছের পোনা উৎপাদনে আগাম প্রস্তুতি নিতে হয়। বর্তমানে পবদাসহ ছোট প্রজাতির একমন মাছ থেকে যে রেনু উৎপাদন হচ্ছে তা মৎস্যচাষিদের কাছে ২১ থেকে ২৩ হাজার টাকা দামে বিক্রি করছেন। এছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির মাছের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দাম রয়েছে।
জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে মান্দা, নিয়ামতপুর, সাপাহার ও পোরশা এই ৪টি উপজেলায় কোন হ্যাচরী নাই। তবে সদরে ৫টি, রানীনগরে ১৬টি, আত্রাইয়ে ২টি, মহাদেবপুরে ২টি, পত্নীতলায় ১টি, ধামইরহাটে ৩টি ও বদলগাছীতে ৩টি নিবন্ধিত হ্যাচারী রয়েছে। প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার নিরিক্ষে নিবন্ধন দেয়া হয়। ২’শ টাকা দিয়ে একটি নিবন্ধন আবেদন ফরম নিতে হয়। ওই ফরমে কিছু নির্দেশনা পূরন সাপেক্ষে জমা দেয়ার পরে কয়েক দফায় জেলা অফিসের নিযুক্ত টিম পরিদর্শন করেন। এরপর নিবন্ধন উপযুক্ত হলে রুই,কাতল,মৃগেলের জন্য ৩ হাজার টাকা ও সাথে ১৫ পার্সেন্ট ভ্যাট জমা দিতে হয়। এই নিবন্ধন মেয়াদ ১ বছর। নবায়ন ফি ২ হাজার টাকা সঙ্গে ১৫ পার্সেন্ট ভ্যাট যুক্ত হবে। এছারাও বিভিন্ন প্রজাতির মৎস্য ও জলজ প্রণীর জন্য সরকারিভাবে বিভিন্ন ফি প্রদান করতে হয়। যেমন গলদা, বাগদা এবং অন্যান্য জলজ প্রণীর ক্ষেত্রে নিবন্ধন আবেদন ফরম ২’শ টাকা। ফি ৭হাজার ৫’শ টাকা এবং প্রতিবছর নবায়ন ফি ৬ হাজার টাকা ও সাথে ১৫ পার্সেন্ট ভ্যাট দিতে হয়। বাহারী বা রঙিন মাছের হ্যাচারী জন্য ফি ১ হাজার ৫’শ টাকা।
নওগাঁ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফেরদৌস আলী বলেন, নওগাঁ জেলায় ২০২৪ সালে বিভিন্ন প্রজাতির রেনু পোনা উৎপাদন হয়েছে ১২.৯০ মেট্রিক টন। যা থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন প্রজাতি, আকৃতি ও ওজনের মৎস্যের সংখ্যা প্রায় ২৬ কোটি। রেনুপোনা উৎপাদনকারী ও মৎস্য চাষি উভয়কে সচেতন করতে হবে মাছের গুনগত মান ঠিক রাখার জন্য। যা জেলা এবং উপজেলা থেকে নিয়মিত করা হয়ে থাকে। গুনগত মান ঠিক রাখতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তরা নিয়মিত মনিটরিং করছেন। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট দেয়া হয়।
স্বত্ব © দৈনিক জনতার খবর ২০২৫ | ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।