
রানা খান।।
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপয়সা ইউনিয়নের শিকদার পাড়া মেঘিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি মহসিন সিকদার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে নতুন করে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, মহসিন অতীতে আওয়ামী লীগপন্থী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থেকে প্রভাব খাটিয়েছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েও একইভাবে প্রভাব বিস্তার করছেন। স্থানীয়রা বলছেন, দল পাল্টালেও তার চরিত্র পাল্টায়নি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে রমজান হত্যা মামলার তিন নাম্বার আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। যদিও মামলার কাগজপত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম নেই, তবে এলাকাবাসীর দাবি—তিনি পরোক্ষভাবে ওই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আসামির তালিকা থেকে নাম বাদ রাখতে সক্ষম হয়েছেন।
নতুন করে আলোচনায় মহসিন সিকদারের ভাইপো মেহেদী
এরই মধ্যে আবারো চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে মহসিন সিকদারের পরিবারের কারণে। অভিযোগ উঠেছে, মাধবপাশা ইউনিয়নের মেগিয়া ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেনের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যায় মহসিন সিকদারের ভাইর ছেলে মেহেদী।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পিতা কামাল হোসেন ৪ আগস্ট বরিশাল কাউনিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। একইসঙ্গে তিনি তার ছোট দুই সন্তানের নামে নিজের সম্পত্তি উইল করে দেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছেলে পক্ষের লোকজন একের পর এক হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, দুই দফা হামলার পর সর্বশেষ ১৭ আগস্ট সকালে কামাল হোসেন ও তার স্ত্রী সাথী বেগমকে ঘরে ঢুকে মারধর করে সন্ত্রাসীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ হামলায় অংশ নেয়—
হানিফ সিকদারের ছেলে বাংলা সবুজ (যিনি রমজান হত্যা মামলার আসামি ও মহসিন সিকদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী),
ওমর আলীর ছেলে মহাজ্জেল সিকদার,
ওমর আলীর ছেলে খলিল সিকদার,
হানিফ সিকদারের ছেলে শাওনসহ প্রায় ২০–২৫ জন।
এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মহসিন অতীতে আওয়ামী লীগপন্থী থাকাকালে যেমন ক্ষমতার দাপট দেখিয়েছেন, বর্তমানে বিএনপি’র ওয়ার্ড সভাপতি হয়েও একইভাবে প্রভাব খাটাচ্ছেন। তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা বারবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লেও আইনের বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন,
“মহসিন অতীতে আওয়ামী লীগের ছায়ায় ছিলেন, এখন বিএনপির ছত্রছায়ায়। দল পাল্টালেও অপরাধ আর প্রভাব খাটানো থামেনি।”
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সচেতন মহল বলছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অপরাধীদের রক্ষা করলে সমাজে বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে।