
দাউদকান্দির বাজারে সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম এখনো চড়া। সরবরাহ কম থাকায় দাম কমছে না। কয়েকটি পণ্যের দাম সামান্য কমলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি অপরিবর্তিত। ভোক্তারা বলছেন, আয় না বাড়ায় খরচ সামলানো কঠিন। মধ্যবিত্তরাও বিপদে পড়েছেন। বাজারে ঢেঁড়স, পটোল, বেগুন, কাঁচা মরিচ, ডিম, টমেটোসহ বেশির ভাগ পণ্যের দাম বেশি। পাইকারি ও খুচরা বাজারে দামের ব্যবধানও বেড়েছে। ভোক্তারা দ্রুত স্থিতিশীল বাজারের দাবি জানাচ্ছেন।
দাউদকান্দির খুচরা বাজারে এখনো বেশির ভাগ সবজি ৫০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ঢেঁড়স ও পটোল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। ৪টি লেবুর দাম ৮০ টাকা। গুঁড়ি কচু ও টমেটো ১২০ টাকা কেজি। গাজর ৮০, শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। চাল, পেঁয়াজ, ডিম, মুরগি, মাছ, তেল- কোনো নিত্যপণ্যের দামই স্থিতিশীল নয়।
সোমবার (১৯ মে) দাউদকান্দি পৌর সদরের কাঁচাবাজার, গৌরীপুর, সুন্দুলপুর, গোয়ালমারী, ইলিয়টগঞ্জ ও রায়পুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজি ও মুরগির দাম এখনো চড়া। তবে এক সপ্তাহে ডিম, কাঁচা মরিচসহ কিছু পণ্যের দাম কিছুটা কমেছে। কয়েক দিন আগে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ডজনপ্রতি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা ছিল। এখন তা নেমে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পৌর বাজারে ডিম ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে এখন দেশি ও আমদানি করা কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে। কিছুদিন আগে এই মরিচের দাম ছিল ১২০ টাকা কেজি। এখন তা কমে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অন্যান্য সবজির দাম এখনো চড়া। গোল বেগুন কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। লম্বা বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা। ঢেঁড়স, পটোল ৪০-৬০ টাকা। করলা ৮০, বরবটি ৮০ থেকে ১০০, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৭০ টাকা। আলু ২০, পেঁপে ৪০ টাকা কেজি। লম্বা লাউ প্রতি পিস ৮০ থেকে ১০০ টাকা।
পাইকারি ও খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি পার্থক্য ২০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত। গত রোববার চান্দিনা নিমশা বাজারে করলা ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়স ও পটোল ৫০-৬০ টাকা, গোল বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৪০ থেকে ৬০ টাকা, লাউ ৬০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সবজির দাম বাড়ার কারণ হলো সরবরাহ ঘাটতি ও হাতবদল। উৎপাদন পর্যায় থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে দাম কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
ক্রেতা শারমিন সুলতানা বলেন, ‘ঢেঁড়স, শসা, পেঁপে, লেবুর দাম প্রচণ্ড বেশি। এই মৌসুমে এসবের দাম কম থাকার কথা। এখন এক কেজির বদলে আধা কেজি করে নিচ্ছি।’ ক্রেতা আব্দুল বাতেন মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা রোজগার করি। তিন কেজি চাল আর কিছু মাছ কিনলে সবজি কেনার টাকা থাকে না। তাই শুধু আলু কিনে নিয়ে যাচ্ছি।’
দাউদকান্দির সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ জুয়েল মিয়া বলেন, ‘কিছু মৌসুমি সবজির দাম চড়া। পাইকারি থেকে কিনে খুচরায় ৫ থেকে ৬ টাকা বেশি রাখতে হয়। তুলনামূলকভাবে সবজির দাম বেশি।’
গৌরীপুর বাজারের বিক্রেতা আরিফ হোসেন বলেন, ‘বাজারে সরবরাহ কম। তাই দাম তেমন কমছে না। তবে কাঁচা মরিচ ও ঢেঁড়সের দাম কমেছে। সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পাইকারি ও খুচরায় দামের পার্থক্যের কারণ পরিবহন ভাড়া, ২৫ শতাংশ পণ্য নষ্ট হওয়া এবং ইজারাদারদের বাড়তি টাকা দিতে হওয়া। এসব খরচ মিলিয়ে দাম বেড়ে যায়।’
পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ান ইসলাম বলেন, ‘সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছি। ইতোমধ্যে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। বর্তমান সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’