
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদিলুজ্জামান ভূঞা’র বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়েছেন ইউপি সদস্যরা।
রোববার (১৮ মে) উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে ওই ইউনিয়ন পরিষদের ১০ সদস্যদের নিজেদের স্বাক্ষর সম্বলিত অনাস্থাপত্র জমা দেন। এটির অনুলিপি দেয়া হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার উপপরিচালককের কাছে।
অনাস্থাপত্রে ইউপি চেয়ারম্যান আদিলুজ্জামান ভূঞার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়।
অভিযোগ বলা হয়, বাদলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আদিলুজ্জামান ভূঞা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি করেছেন। সে সময় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সাথে সমন্বয় না করে একাধিক প্রকল্প তার লোক দ্বারা পরিচালনা করেছেন। এভাবে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন ধরনের প্রকল্পের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।
গত ২১শে মার্চ ভিজিএফ এর চাল চুরির কারণে তিনি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন জেলহাজতে ছিলেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে। ফলে ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘদিন যাবৎ ইউনিয়নবাসী নাগরিক সেবা হতে বঞ্চিত হচ্ছে। অনাস্থা আবেদনটি ইউনিয়নের মোট ১২ জন ইউপি সদস্যের মধ্যে ১০ জনের স্বাক্ষরে ইটনা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষরকারীরা হচ্ছেন, সংরক্ষিত ১নং ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য রুজিনা, সংরক্ষিত ২নং ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য মোছা. লাভলী, সংরক্ষিত ৩নং ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য খোদেজা আক্তার, ১নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. বকুল মিয়া, ২নং ওয়ার্ড সদস্য তাজমুল শেখ, ৩নং ওয়ার্ড সদস্য মো. রেনু মীর, ৪নং ওয়ার্ড সদস্য ইমদাদুল হক, ৬নং ওয়ার্ড সদস্য মো. নাজিম উদ্দিন ভূইয়া, ৭নং ওয়ার্ড সদস্য মহিউদ্দিন মোল্লা রনি এবং ৮নং ওয়ার্ড সদস্য মো. নূরুজ্জামান। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইউনিয়নের বাকি ২জন সদস্যের মধ্যে ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য রোকন উদ্দিন ভূঁইয়া কারাগারে রয়েছেন। এছাড়া ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য আল আমিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা করার অভিযোগে মামলায় রয়েছে। তবে তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
এ বিষয়ে ইউএনও মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।