
মোঃ রাতুল হাসান লিমন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরও থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ থামেনি। শনিবার ভোরেও সীমান্তজুড়ে গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল জানিয়েছেন, কম্বোডিয়ার সেনারা সীমান্ত এলাকা থেকে পুরোপুরি সরে না গেলে এবং স্থলমাইন অপসারণ না করা পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা সম্ভব নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “আমাদের ভূখণ্ড ও জনগণের প্রতি হুমকি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত থাইল্যান্ড সামরিক পদক্ষেপ চালিয়ে যাবে। আজকের কর্মকাণ্ডই আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করে।”
এদিকে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, শনিবার থাইল্যান্ডের যুদ্ধবিমান হোটেল ভবন ও একটি সেতু লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালিয়েছে। অপরদিকে থাইল্যান্ড জানিয়েছে, কম্বোডিয়ার রকেট হামলায় তাদের কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।
চলমান সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন এবং দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে প্রায় সাত লাখ মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, উভয় দেশের নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পর থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া তাৎক্ষণিকভাবে গোলাগুলি বন্ধে সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, “দুই দেশই শান্তির পথে ফিরতে প্রস্তুত।”
তবে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার পর প্রকাশিত বিবৃতিতে কোনো পক্ষই তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “কম্বোডিয়াকে আগে প্রমাণ করতে হবে যে তারা সেনা প্রত্যাহার ও মাইন অপসারণ করেছে।”
অন্যদিকে কম্বোডিয়ার নেতৃত্ব জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা লড়াই চালিয়ে যেতে বাধ্য।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুলাই থেকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ নতুন করে সংঘাতে রূপ নেয়। কম্বোডিয়া প্রথমে রকেট হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করলেও থাইল্যান্ড পাল্টা বিমান হামলা শুরু করে। এর আগে অক্টোবরে মালয়েশিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে দুই দেশ একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও পরে একে অপরের বিরুদ্ধে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে।
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্ত নিয়ে বিরোধ শত বছরেরও বেশি পুরোনো। ১৯০৭ সালে ফরাসি শাসনামলে নির্ধারিত সীমান্তরেখা থেকেই এই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।